যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যাকারী সাবেক মার্কিন সেনা মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (৬ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের পর ট্রাম্প এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেন বলে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন।
২০০৯ সালের ওই হামলায় ১২ জন নিরস্ত্র কর্মরত সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নিহত হন। আহত হন আরও ৩২ জন। হামলার সময় হাসান ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেছিলেন বলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মুসলিম বিশ্বে মার্কিন যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন
হামলার পর হাসান জানিয়েছিলেন, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি এই হামলা চালিয়েছিলেন।
সেন্ট্রাল টেক্সাসের ওই সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে লেজার-সাইটযুক্ত পিস্তল দিয়ে গুলি চালানোর ঘটনায় ২০১৩ সালের আগস্টে সামরিক আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ৪৫টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
হামলার সময় হাসানের বয়স ছিল ৩৯ বছর। বর্তমানে তার বয়স ৫৬। গ্রেফতারের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং এরপর থেকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করছেন।
কবে কার্যকর হবে মৃত্যুদণ্ড?
পেন্টাগন জানিয়েছে, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন আর্মি সেক্রেটারি। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এ সিদ্ধান্তকে উল্লেখ করে বলেছেন, হাসানের ‘বিচারের দিন অবশেষে এসেছে’।
মার্কিন সামরিক আইনে সামরিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না।
৬৫ বছর পর প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড হতে পারে
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে এটি হবে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। ডেথ পেনাল্টি অ্যাকশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে কার্যকর করা হয়েছিল।
আর মার্কিন সেনাবাহিনীর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জানা উদাহরণ ১৯৪৫ সালের নভেম্বরের। সে সময় ‘মাসকেট্রি’ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল বলে ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য।
সম্প্রতি সবচেয়ে গুরুতর ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াডের পাশাপাশি ইলেকট্রিক চেয়ার ও গ্যাস প্রয়োগের পদ্ধতিও অনুমোদিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে ক্রমবর্ধমান সমস্যার কারণে বিকল্প পদ্ধতি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সংগঠন ডেথ পেনাল্টি অ্যাকশন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টিকে ট্রাম্প যেভাবে ব্যবহার করছেন, তা উদ্বেগজনক।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ