লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে, ইরানি সংবাদমাধ্যমের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। তারা এই খবরকে ‘ভুয়া প্রতিবেদন’ বলে উল্লেখ করেছে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক বিমান ও সদস্যরা সবাই নিরাপদে আছেন এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দাবি করে, মার্কিন নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টারটি জরুরি সংকেত দেওয়ার পর লোহিত সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে সৌদি আরবের ইয়ানবু উপকূলের কাছে হেলিকপ্টারটির অবস্থান দেখানো একটি ফ্লাইটরাডার২৪ স্ক্রিনশটও প্রকাশ করা হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, ইয়ানবুর কাছে হেলিকপ্টারটি জরুরি সংকেত পাঠিয়েছিল। রাডার তথ্যের বরাত দিয়ে তারা আরও দাবি করে, একপর্যায়ে হেলিকপ্টারটির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শূন্য মিটার দেখানো হয়। তবে আইআরআইবির প্রকাশিত স্ক্রিনশটে উচ্চতা ১৭৫ ফুট দেখা যায়।
হেলিকপ্টার নিয়ে এই দাবির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখনও চলছে এবং কাতার ও তার আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারির দপ্তরের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, সংঘাতের ব্যাপকতা এবং এর কারণে পুরো বিশ্ব যে মূল্য দিচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এটি বন্ধ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা প্রয়োজন।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’ এবং এসব আলোচনার পরও নতুন করে হামলা হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের সক্ষমতা আড়াই গুণ বেড়েছে। কিছু ধরনের অস্ত্রের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে ইরান ‘নির্ণায়ক জবাব’ দেবে এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো ভুল হিসাবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগের চেয়েও ‘কঠোর ও বিধ্বংসী’ জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ