ইরানে বৈদেশিক মুদ্রার কোনো সংকট নেই—এমন বার্তা দিতে বাজারে ২০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে হেম্মাতি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে বোঝাতেই বাজারে এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বাজারে ২০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছি, যাতে ট্রাম্প ও তার অর্থমন্ত্রী বুঝতে পারেন—বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।
হেম্মাতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত ইরানের বাজারে মোট প্রায় ২ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরবরাহ কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ।
তবে এই ঘাটতি মূলত শিল্প খাতে সীমাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন হেম্মাতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে এমন সংকট তৈরি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। বরং ওষুধ আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
হেম্মাতির এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে শনিবার ইরানের মুদ্রা রিয়াল নতুন রেকর্ড নিম্নমুখী অবস্থানে পৌঁছায়। ওই দিন প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর প্রায় ২৬ লাখ ৮৮ হাজারে নেমে যায়। রিয়ালের দরপতন ঠেকাতে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছিল।
এদিকে ইরানের আর্থিক খাতে চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান বা দেশটির আর্থিক খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।
সময়ের আলো/জেডি