চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পহরচাঁদা আশ্রয়ণ পাড়া সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে। বর্ষাকালে সড়ক জুড়ে কাদাজল, শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির জন্য চলাফেরা করা যায় না। পুটিবিলা সরই ব্রীজ হতে উত্তর পহরচাঁদা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এই সড়কের কয়েকশ মিটার ইট বিছানো হয়েছে। সড়কটি বাকি কাঁচা অংশ বর্ষাকালজুড়ে কাদাজলে বেহাল থাকে। কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৩৫ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ সড়কটি নির্মাণ করে। পরে সেটি ২০২২ সালে এলজিইডির তালিকাভুক্ত হয়। সড়কটি দিয়ে পহর চাঁদা, হানিফারপাড়া, নতুনপাড়া, আশ্রয়ণপাড়া, খনিরপাড়া, পূর্বপাড়া, বড়ুয়াপাড়া ও আদর্শপাড়ার প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটিতে বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালু লেগেই থাকে। ফলে সড়কটিতে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
বর্ষাকালে, রোগীদের সড়কটি দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই সড়ক দিয়ে গৌড়স্থান উচ্চবিদ্যালয়, কলাউজান গৌড়সুন্দর উচ্চবিদ্যালয়, হাসনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পহরচান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌড়স্থান আখতারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসাসহ আশপাশের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত কয়েক হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত চলাচল করে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কটি দিয়ে নিয়মিত চলাচল করে প্রায় দশ হাজার মানুষ। সড়কটি পুটিবিলা হাসনাভিটা সেতু এলাকা থেকে শুরু হয়ে উত্তর দিকে পহরচান্দা গ্রামের ভেতর দিয়ে পুটিবিলা খনিরপাড়া এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন স্থানের মাটি দেবে গেছে। কোনো কোনো অংশে ছোট বড় গর্ত, কোথাও হাঁটুসমান কাদা। সড়কে যানবাহন চলাচল দূরে থাক, হেঁটে চলাও দায়। সড়কটির এমন অবস্থায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা কেউ জুতা হাতে, কেউ জামা গুটিয়ে পথ পাড়ি দিচ্ছে। বয়স্ক ও রোগীদের নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল একেবারেই অসম্ভব হয়ে গেছে।
নয়াপাড়ার বাসিন্দা কৃষক মোহাম্মদ আবু ছালেক ও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পহরচান্দা গ্রামটি কৃষিনির্ভর। সড়কের আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই কৃষক পরিবার। ওই গ্রামে আবাদি জমির পাশাপাশি অনেক গবাদিপশুর খামার, মৎস্য খামার ও ফলদ বাগান রয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে কৃষকদের কৃষিপণ্য আশপাশের হাটবাজারে নিয়ে যেতে হয়। সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়া কৃষিপণ্য আনানেওয়া কষ্টসাধ্য।
পহরচান্দা কৃষক উন্নয়ন সংঘের সভাপতি খালেদ আল মামুন বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে কৃষকেরা তাঁদের ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন। যথাসময়ে উৎপাদিত ফসল বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। এতে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সড়কটি সংস্কার করা খুব জরুরি।
পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, সড়কটি ২০২২ সালে এলজিইডির তালিকাভুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য শীঘ্রই সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সড়কটির কাজ শুরু করা যাবে।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম-১৫(সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপজেলা প্রকৌশল অফিস প্রস্তাবনা প্রেরণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শীঘ্রই সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/জেডি