পরকীয়ার অভিযোগে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ, প্রবাসী গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে চয়ন আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের পর

2026-10-07T10:53:44+00:00
2026-10-07T10:54:11+00:00
 
  বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
পরকীয়ার অভিযোগে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ, প্রবাসী গ্রেফতার
আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম  আপডেট: ০৭.১০.২০২৬ ১০:৫৪ এএম
চয়ন আলী। ছবি : সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে চয়ন আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে মালয়েশিয়াপ্রবাসী হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। তবে হেলালের দাবি, মারধরের পর চয়নকে ঘরে আটকে রাখলে তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় হেলালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী থেকে চয়নকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয়। পরে আলমডাঙ্গা শহর হয়ে ওসমানপুর গ্রামের নতুনপাড়ায় হেলালের বাড়িতে নেওয়া হয় বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ। সেখানে চয়নকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলেও দাবি তাদের। পরে ভ্যানযোগে চয়নকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

নিহত চয়ন আলী আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী মোহনপাড়ার সাজ্জাদ হোসেন গদার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হারদী কৃষি ক্লাব বাজারে চপ, বড়াসহ বিভিন্ন ভাজাপোড়া খাবার বিক্রি করতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

নিহতের ছেলে মারুফ বলেন, মঙ্গলবার সকালে হেলাল উদ্দিন মোবাইল ফোনে তার বাবাকে ডেকে নেন। পরে চয়নের মোবাইল ফোন থেকেই তাকে ফোন করে দাদি ও মাকে ওসমানপুরে নিয়ে যেতে বলা হয়। বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে হেলাল জানান, চয়নকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চয়নের কাছে টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে স্ট্যাম্পে লিখিত নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

মারুফ বলেন, হেলালের কথামতো তিনি আলমডাঙ্গা থেকে স্ট্যাম্প কিনে ওসমানপুর যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এ সময় মনির নামে এক আত্মীয়কে সঙ্গে নেওয়ার কথা জানান। মনির হেলালকে ফোন করলে তিনি জানান, চয়নকে ভ্যানে করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন হেলাল উদ্দিন। দেশে ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে চয়ন আলীর সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তিনি আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়ার জন্য টিকিটও কেটেছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের ইয়ামিনের ছেলে হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে ওসমানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবির মেয়ে লাবনীর বিয়ে হয় প্রায় দেড় যুগ আগে। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর জীবিকার জন্য মালয়েশিয়ায় চলে যান হেলাল এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ১৫ বছর আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে পৃথক হয়ে বাগানের মধ্যে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন হেলাল। সেখানে স্ত্রী লাবনী ও তাদের মেয়ে নুপুর থাকতেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে চয়ন আলীর সঙ্গে লাবনীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। সেই সূত্রে ওই বাড়িতে চয়নের যাতায়াত ছিল।

চয়নকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ শ্বাসরোধ বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে এসবের কোনোটি এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এ ঘটনায় শুধু হেলাল ও তার স্ত্রী লাবনীই জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।


নিহতের মা বেদানা খাতুন বলেন, সকালে হেলাল ফোন করে তার ছেলেকে ডেকে নেন। পরে চয়নের মোবাইল ফোন থেকে তার নাতিকে জানানো হয়, চয়নের কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। চয়নকে হেলালের বাড়িতে আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি ওসমানপুরে যান। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারেন, তার ছেলেকে ভ্যানে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর হেলাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী লাবনী এলাকা থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

পরে রাতেই প্রযুক্তির সহায়তায় হেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।

গ্রেফতারের পর হেলাল পুলিশকে জানান, তার স্ত্রী লাবনীর সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে চয়নের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানতে পারেন। মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে তিনি লাবনীর মোবাইলে চয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও পান বলে দাবি করেন। এরপর চয়নকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে আনেন। হেলালের দাবি, চয়নকে মারধরের পর তার আত্মীয়দের কাছে তুলে দেওয়ার জন্য ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। এরই মধ্যে চয়ন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তিনি একটি ভ্যান ভাড়া করে চয়নকে হাসপাতালে পাঠান।

এদিকে চয়ন আলীর মৃত্যুর ঘটনায় ওসমানপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কী কারণে চয়নকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল, বাড়িতে কী ঘটেছিল এবং তার মৃত্যুর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন পুলিশের তদন্তে মিলবে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় এজাহার দিয়েছেন। রাতেই প্রযুক্তির সহায়তায় হেলালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   পরকীয়া  বাড়ি  যুবক  হত্যা  প্রবাসী গ্রেফতার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: