চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় সাগু গলায় আটকে ৭ মাস বয়সী শিশু আরিয়ান এবং অজ্ঞাত সাপের কামড়ে হোসাইন আলী (৮) নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ও ভোররাতে মর্মান্তিক ঘটনা দুটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু আরিয়ান উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের মাজু গ্রামের ইবলুল হোসাইন ও রাবিয়া খাতুন দম্পতির একমাত্র ছেলে। তাদের ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আরিয়ানের বাবা ইবলুল হোসাইন আলমডাঙ্গা শিশু নিকেতন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক। শিশুটির নানা কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার পাটিকাবাড়ি গ্রামের লতিফ মণ্ডল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে মা রাবিয়া খাতুনের সঙ্গে আরিয়ান নানা বাড়ি পাটিকাবাড়ি গ্রামে বেড়াতে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মা তাকে সাগু খাওয়াচ্ছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ সাগু শিশুটির গলায় আটকে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও গলা থেকে সাগু বের করা সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে শিশুটি।
ঘটনার সময় শিশুটির বাবা ইবলুল হোসাইন স্কুলে ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দ্রুত পাটিকাবাড়ি ছুটে যান। দুপুরে শিশুটির মরদেহ মাজু গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে একই দিন ভোররাতে অজ্ঞাত সাপের কামড়ে হোসাইন আলী (৮) নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত হোসাইন আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তার পরিবার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার আনন্দধাম দক্ষিণপাড়ায় আনন্দধাম থেকে এরশাদপুরগামী পাশ ক্যানেলের পাশে বসবাস করছিল। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ছিল হোসাইন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে হোসাইন পরিবারের সদস্যদের জানায়, তাকে কোনো কিছু কামড় দিয়েছে। পরে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সকাল ৮টার দিকে স্বজনরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়েই হোসাইনের মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির শরীরে সাপে কামড়ের কোনো দাগ পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর স্বজনরা তা বাড়িতে নিয়ে যান।
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
সময়ের আলো/এনএন