বয়স ৬৫ বছর। জীবনের এই সময়ে এসে অনেকেই যেখানে কাজের ব্যস্ততা কমিয়ে বিশ্রাম নিতে চান, সেখানে গোলেনুর বেগমের ভাবনা ভিন্ন। নিজেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নতুন করে কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম ধাপ হিসেবে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে হাতে পেয়েছেন সনদপত্র। এখন প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাড়িতে পশু-পাখি পালন করে আয় করতে চান তিনি।
গোলেনুর বেগমের মতো সীমান্তবর্তী এলাকার আরও ১৯ জন বেকার যুবক-যুবতীকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার ২০ জন প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
২৩ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ শেষ হয় ১৭ সেপ্টেম্বর। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে প্রশিক্ষণের সমাপনী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানে প্রেমতলী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাকসুদুর রহমান, বিদিরপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার খন্দকার আব্দুল হাই, রাজাবাড়ি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের বিষয়ে আগে তাদের অনেকেরই অভিজ্ঞতা থাকলেও আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে এসব পালন করে কীভাবে আয় করা যায়, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। প্রশিক্ষণে তারা পশু-পাখির পরিচর্যা, খাবার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা পেয়েছেন। স্বল্প পুঁজি ও সীমিত জায়গায় কীভাবে পশু-পাখি পালন করে আয় করা যায়, সে বিষয়েও তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
৬৫ বছর বয়সী গোলেনুর বেগম বলেন, বয়স বেশি হলেও কাজ করার ইচ্ছা তার এখনো আছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছেন। এখন নিজের বাড়িতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন করে আয় করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
বিজিবির বিদিরপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাই বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিজিবি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্ত এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে ‘সীমান্ত কারিগরি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’-এর আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যাতে নিজেদের বাড়িতে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে পশু-পাখি পালন শুরু করতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার বেকার যুবকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নিজেদের বাড়িতে স্বল্প পুঁজিতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন করে আয় করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা সম্ভব।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সীমান্ত এলাকার বেকার যুবসমাজকে চোরাচালান ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। বৈধভাবে আয় করার পথ তৈরি হলে তরুণরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ২০ জনের হাতে সনদপত্র ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তোলা, তাদের স্বাবলম্বী করা এবং জীবনমানের উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
সময়ের আলো/এনএন