চট্টগ্রামে আদালতে জামিন শুনানির সময় অসংলগ্ন কথা বলা, কথা জড়িয়ে যাওয়া ও অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে শাহেদুল হক নামে এক আইনজীবীর ‘ডোপ টেস্টের’ করানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা এই আদেশ দেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার ঘটনাটি সামনে আসে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হালিশহর থানার একটি নালিশি মামলার আসামি এমরান চৌধুরীর জামিনের আবেদন করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন শাহেদুল হক। শুরুতে জামিনের শুনানি করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শ্যামলী চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে আদালত জানতে চান, বাদীপক্ষের আইনজীবী হয়ে তিনি আসামির জামিনের শুনানি করতে পারেন কি না।
এ সময় শ্যামলী চৌধুরী বলেন, আসামির আইনজীবী শাহেদুল হক আদালতে আসতে চাইছেন না। এ কারণে তিনি জামিনের শুনানি করতে চান। একই সঙ্গে আসামির জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই বলেও আদালতকে জানান তিনি।
পরে আদালত বলেন, জামিনের শুনানির সময় আসামির আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন। এর কিছুক্ষণ পর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে আদালতে প্রবেশ করেন শাহেদুল হক।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, শুনানির সময় শাহেদুল হক অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আসামি ভুল করেছে আর ভুল করবে না। আদালতের নিকট জামিন চাই।’
আদেশে বিচারক বলেন, বাদীপক্ষ আসামির জামিনে অনাপত্তি দিয়েছে— এটি স্বাভাবিকভাবে বলার কথা। কিন্তু শুনানির সময় শাহেদুল হকের কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং তার পোশাক-পরিচ্ছদও স্বাভাবিক ছিল না। এ অবস্থায় তিনি মদ্যপান করেছেন বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
এরপর শাহেদুল হককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেন আদালত।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, আদালত এক আইনজীবীর ডোপ টেস্টের নির্দেশ দিয়েছেন। এখনো তারা এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাননি।
সময়ের আলো/জেডি