মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুললেই সংশ্লিষ্ট বাস ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। যানজট ও সড়ক দখল কমাতে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাসকে নির্ধারিত স্টপেজ বা কাউন্টার থেকেই যাত্রী তুলতে হবে। টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে আর যাত্রী তোলা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে বাস ও চালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে নিয়ম ভাঙায় কয়েকটি বাসকে ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বাসগুলো নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বের হচ্ছে। সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার দৃশ্য দেখা যায়নি। যাত্রী নিয়ে বাসগুলো সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ বাসগুলোও মহাখালী থেকে সরিয়ে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালী এলাকায় এ ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা।
পূর্বাচলে ৯১ বাস
মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে মোট ৯১টি বাস ছিল। এর মধ্যে ওইদিন পর্যন্ত ৭৪টি বাস ডিপোতে প্রবেশ করেছে। ১০টি বাস সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে নিয়মিত অবস্থান করছে ৬৪টি বাস। এর বাইরে আগে থেকেই ২৩টি এবং মহাখালী টার্মিনাল থেকে নতুন করে আরও চারটি আন্তজেলা বাস সেখানে রাখা হয়েছে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বাবুল বলেন, যেসব বাসের এক ট্রিপ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ট্রিপে ৩ থেকে ৮ ঘণ্টা বিরতি থাকে, সেগুলো টার্মিনাল বা প্রধান সড়কে না রেখে পূর্বাচলের ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি বাস ডিপোতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০টি বাস রাখার সুযোগ রয়েছে। বাকি অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলে আরও ৫০ থেকে ৬০টি বাস রাখা সম্ভব হবে।
তার ভাষ্য, যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপ ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে, প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো টার্মিনালে রাখা হবে। নতুন নিয়মে যাত্রার সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট আগে বাস টার্মিনালে প্রবেশ করবে, যাত্রী তুলবে এবং এরপর গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
কেন সরানো হচ্ছে বাস
বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটের বাস সকালে ঢাকায় এসে পরবর্তী ট্রিপের অপেক্ষায় দিনের বড় একটি সময় মহাখালী টার্মিনাল ও আশপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকত। এতে সড়কের জায়গা দখলের পাশাপাশি যানজট তৈরি হতো। বিশেষ করে বিমানবন্দরমুখী সড়কে এর প্রভাব পড়ত।
নতুন ব্যবস্থায় পরবর্তী ট্রিপে কয়েক ঘণ্টা দেরি থাকলে বাসটি পূর্বাচলের ডিপোতে থাকবে। নির্ধারিত সময়ের আগে মহাখালী টার্মিনালে এসে যাত্রী তুলে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, পূর্বাচলের ডিপোর কিছু অবকাঠামোগত কাজ এখনো শেষ হয়নি। অতিবৃষ্টির কারণে সেখানে রাখা বাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাসকর্মীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।
এসব কাজ শেষ হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ বাসগুলো ডিপোতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। মহাখালীতে মূলত চলমান বাস থাকবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা করা হবে।
৭২ ঘণ্টায় পরিবর্তনের লক্ষ্য
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, মহাখালীর দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়ক দখলের সমস্যা দূর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটের বাস সকালে ঢাকায় এসে রাতের ট্রিপের অপেক্ষায় দিনের বেশির ভাগ সময় মহাখালীতে থাকত। নির্দিষ্ট ডিপো না থাকায় সড়কেই বাসগুলো দাঁড়িয়ে থাকত। এ সমস্যা সমাধানে রাজউকের পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী বাস ডিপো তৈরি করা হয়েছে।
সায়েদাবাদ-ফুলবাড়িয়াতেও একই পরিকল্পনা
মহাখালীর পর রাজধানীর ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও একই ধরনের ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবস্থাপনাকে কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে থাকা যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার সরিয়ে টার্মিনালগুলো সংস্কার করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ই-টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সেবা এক জায়গা থেকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
মহাখালী থেকে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৫ জুলাই। সংশ্লিষ্টদের আশা, সড়ক থেকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বাস সরিয়ে নির্দিষ্ট ডিপোতে রাখলে মহাখালীর যানজট কমবে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে।
সময়ের আলো/টিকে