কিশোরগঞ্জে ওসির স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া মামলার এজাহার তৈরির পর সেটিতে আসামি করার ভয় দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযোগকারীরা। পাশাপাশি অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কটিয়াদী উপজেলার মো. আলী আকবর হৃদয় ও বিএনপি নেতা শাহজাহান সিরাজী অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এনামুল শেখ কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) স্বাক্ষর জাল করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি ভুয়া এজাহার তৈরি করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর মামলা দায়েরের তারিখ দেখিয়ে তৈরি ওই এজাহারে কটিয়াদী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ সিরাজীসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই মামলার এজাহার আসামি মো. আলী আকবর হৃদয়ের ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠান আইনজীবী এনামুল শেখ। এরপর পুলিশ কাউকে হয়রানি করবে না এবং আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে— এমন আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেক আসামির কাছে এক লাখ টাকা করে দাবি করা হয়। এভাবে কবির নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, মামলার ৮ নম্বর আসামি শাহনেওয়াজ সিরাজীর বাবা শাহজাহান সিরাজী বিষয়টি জানতে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় যোগাযোগ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই তারিখে এ ধরনের কোনো মামলা থানায় রেকর্ড হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ সময় কটিয়াদী পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজী ও ব্যবসায়ী কবির উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইনজীবী এনামুল শেখ। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। অভিযোগকারীরা একই এলাকার বাসিন্দা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভুঁইয়া বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি। কেউ তার স্বাক্ষর জাল করে এজাহার তৈরি করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
সময়ের আলো/জোই