খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে চেইন টানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে টিকিট পরীক্ষক ও রেলওয়ের কর্মীদের বিরুদ্ধে মারধর, গালিগালাজ ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের হেনস্তা বা মারধর করা হয়নি। নিয়ম ভঙ্গের কারণে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ন্যূনতম জরিমানা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মৃন্ময় চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মৃন্ময় চক্রবর্তীর অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিচ্ছে বলে জানতে পারেন তিনি। এ কারণে বুধবার রাতে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামানোর জন্য তিনি চেইন টানেন। পরে রেলওয়ের কর্মীরা তাকে ও সঙ্গে থাকা অন্যদের আটক করেন।
মৃন্ময় বলেন, চেইন টানার পর রেলওয়ের কর্মীরা আমাদের ধরে ফেলেন। আমরা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাই এবং রেলের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা বা শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা বলি। কিন্তু এর আগে আমাদের কটূক্তি, গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চেইন টানা আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা বারবার ক্ষমা চেয়েছি। রেলের আইনে যে শাস্তি আছে, সেটাও মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সেই ভুলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমান বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তবে শিক্ষার্থীকে হেনস্তা বা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, নিয়ম ভঙ্গ করায় ওই শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের হেনস্তা করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে ন্যূনতম জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য, তাতে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও একই ট্রেনের যাত্রী, আর কর্মচারীরাও ওই ট্রেনেরই কর্মচারী। শিক্ষার্থীরা যদি সত্যিই হেনস্তার শিকার হয়ে থাকে, তবে উপযুক্ত প্রমাণসহ দরকার হলে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানানো হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা অবশ্যই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করব, তারা যেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়।
উল্লেখ্য, ২১ জুলাই ট্রেনে রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে প্রায় ১০ ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার বিষয়টিও ছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সময়ের আলো/এনএন