চার দফতরের দায়িত্বে ইউএনও, সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একসাথে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দফতরের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে জনসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

2026-09-17T19:14:18+00:00
2026-09-17T19:14:56+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
চার দফতরের দায়িত্বে ইউএনও, সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম  আপডেট: ১৭.০৯.২০২৬ ৭:১৪ পিএম
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস। ছবি : সময়ের আলো
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একসাথে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দফতরের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে জনসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, পাকুন্দিয়া পৌরসভা ও এসিল্যান্ড অফিসে অনেক সেবাপ্রার্থী ইউএনও জন্য অপেক্ষা করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিফাত জাহানকে জুলাই মাসের ২০ তারিখে (ইউএনও) হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান ৩ আগস্ট বদলি হলে ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান ইউএনও।

উল্লেখ্য, ২৪ এর গণুঅভ্যুত্থানের পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়রের পদ শূন্য হওয়ায় ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন তিনি। 

পাকুন্দিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাকিবুল আলম ছোটন বলেন, আগে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মানুষ সহজেই সেবা পেতেন। যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হইছে, তারা নিজের অফিসের নির্ধারিত কাজ শেষ করে পৌরসভার কাজ গুলো করতে হয়। অনেককে তারা ব্যক্তিগত ভাবে চিনে না, এতে কাজের সময় বেশি লাগে। পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, মেয়র নেই, এখন এসিল্যান্ড নেই। এখন ইউএনও কে সবসময় পাওয়া যায় না। ফলে বিভিন্ন সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে।

পাকুন্দিয়া পৌরসভায় জন্মনিবন্ধন করতে আসা বরাটিয়া গ্রামের জাকিয়া আক্তার জানান, অসুস্থ বাচ্চার জন্মনিবন্ধন করার জন্য দুই মাস ধরে চেষ্টা করতেছেন, কিন্তু নিবন্ধন পাচ্ছেন না। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মাসুম মিয়া জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একটি কাজের জন্য একাধিকবার অফিস থেকে অফিসে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে।

কয়েকজন সাবেক জনপ্রতিনিধি জানান, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একসাথে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কঠিন। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে বলে তারা মনে করে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান সহকারী কমিশনারের অতিরিক্ত দায়িত্বে যুক্ত হওয়ার পর ইউএনও কাজের চাপ বেড়েছে। নিয়মিত দাফতরিক কাজ শেষ করার পরও তাকে ভূমি অফিসের ফাইল নিষ্পত্তি করতে হয়।


উল্লেখ্য, চারটি দফতরের কাজের পাশাপাশি ইউএনও নিয়িমিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিভিন্ন সরকারি সভা-সমাবেশ, সেমিনার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এ তিনি ব্যস্ত থাকায় অনেক সেবাপ্রার্থীরা সময়মত পান না। এতে জনসেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি কাজ করতে আসা অনেকে বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরছে, কেউ পৌরসভায়, কেউ ভূমি অফিসে আবার অনেকেই উপজেলায় সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস বলেন, প্রতিদিন নিজের অফিসের কাজ শেষ করে বাংলো অফিসে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করি। তারপরেও ইউএনও হিসেবে অনেক কাজ করতে গেলেও অনেক কাজ থাকে যেমন জেলা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং বিভিন্ন সরকারি প্রোগ্রাম ভ্রাম্যমান আদালতসহ অনেক কাজ করতে হয়। সব মিলিয়ে এক সাথে চারটা দায়িত্ব পালন করা অনেক কঠিন। আমার পক্ষ থাকে যতটুকু সেবা দেওয়া যায় তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

তিনি আর বলেন, নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কবে যোগদান করে তা জানা নেই। সহকারী কমিশনার থাকলে অত্যন্ত ভালো হত। 

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   চার দফতর  দায়িত্বে ইউএনও  সেবা প্রার্থী  ভোগান্তি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: