স্বামী-সন্তান হারিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বৃদ্ধার মানবেতর জীবন, সরকারি সহায়তার আকুতি

নাটোর প্রতিনিধি

সারাদেশ

নাটোরে স্বামী ও সন্তান হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সত্তর বছর বয়সী আরতি দাস (মিনা) নামে এক বৃদ্ধা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ

2026-09-17T20:58:31+00:00
2026-09-17T20:59:28+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
স্বামী-সন্তান হারিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বৃদ্ধার মানবেতর জীবন, সরকারি সহায়তার আকুতি
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম  আপডেট: ১৭.০৯.২০২৬ ৮:৫৯ পিএম
অভাব-অনটনের কারণে ঘরটি সংস্কার করতেও পারছেন না তিনি। ছবি : সময়ের আলো
নাটোরে স্বামী ও সন্তান হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সত্তর বছর বয়সী আরতি দাস (মিনা) নামে এক বৃদ্ধা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই নারীর আশ্রয় শুধু একটি জরাজীর্ণ ঘর। ঘরের চালের বিভিন্ন স্থানে ফুটো হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি পড়ে। ফলে বর্ষাকালে ঘরের মধ্যে বসবাস করাই হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

অভাব-অনটনের কারণে ঘরটি সংস্কার করতেও পারছেন না তিনি। ঝড়-বৃষ্টির সময় আতঙ্কে কাটে তার রাত। কখনো বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ঘরের বিভিন্ন স্থানে হাঁড়ি-পাতিল কিংবা পাত্র বসিয়ে রাখতে হয়। ভেজা মেঝে ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কাটছে তার দিন-রাত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নে ৬নং ওয়ার্ডে হাসেমপুর পূর্বপাড়া মৃত্য নগেনদাসের স্ত্রী আরতি দাস। প্রায় ১৫ বছর আগে তার স্বামী মারা গেলে সন্তান মিলন দাস পাঁচ সদস্যের সংসারের হাল ধরেন। ৮ বছর আগে হ্নদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেও মৃত্যুবরণ করলে সংসারে উপার্জন করার মতো কেউ নেই।

প্রতিবেশী জমির হোসেন জানান, জীবনের শেষ বয়সে এসে ওই বৃদ্ধার দেখাশোনার মতো আপনজনও নেই। স্বামী ও সন্তান হারানোর পর অনেকটা তার পুত্রবধূ দেখাশোনা করে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও তার জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

বৃদ্ধা আরতি দাস (মিনা) জানান, নিজের একটি নিরাপদ ঘর তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় জরাজীর্ণ ঘরটিই তার একমাত্র আশ্রয়। বৃষ্টি হলে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ায় রাত জেগে থাকতে হয়। সরকারি বা বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে অন্তত মাথা গোঁজার জন্য একটি নিরাপদ ঘর পেতেন তিনি।


নাটোর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পীরগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, অসহায় এই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সরকারি সহায়তা বা কোনো সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে বৃদ্ধার জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কার কিংবা একটি নতুন ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।

কাফুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, একসময় অসহায় এই পরিবারটি তার নিজ গ্রামের পাশেই বাস করতেন। এখন হাসেমপুর গ্রামে তার আত্মীয়র বাড়ির পাশে বাস করেন। এই ওয়ার্ডে মেম্বার পলাতক থাকায় নিজে ব্যক্তিগত চাল ও সামান্য টাকা দিয়ে সহায়তা করে আসছেন। বৃষ্টি এলেই জরাজীর্ণ ঘরের চাল দিয়ে পড়ে পানি এমন খবর পেয়ে এক বান্ডিল টিন এক হাজার টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন। এছাড়া আরতি দাসকে বিধবা কার্ড করে দেয়া হয়েছ।, আগামীতেও তাকে সরকারি ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। 

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকা এই স্বামী-সন্তানহারা বৃদ্ধার চোখে এখন একটাই আকুতি—বৃষ্টির রাতে যেন আর ঘরের চাল দিয়ে পানি না পড়ে। নিরাপদ একটি ঘরে যেন জীবনের বাকি দিনগুলো কাটাতে পারেন।

সময়ের আলো/এনএন

  বিষয়:   জরাজীর্ণ ঘর  মানবেতর জীবন  সরকারি সহায়তা  আকুতি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: