চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর চাপ সামলানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। দিন দিন বেড়েই চলেছে রোগীর সংখ্যা। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার পরও প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ১৪ হাজার ৫৪০ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। এরমধ্যে বহির্বিভাগে ১১ হাজার ৬২৯ ও জরুরি বিভাগে ২ হাজার ৯১১ জন। একই সময়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন ৮৮৭ জন রোগী।
ওই মাসে ৩৩টি বড় ও ৪৮৯টি ছোট অস্ত্রোপচার, ২৯৪টি স্বাভাবিক প্রসব এবং ৩৩টি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়েছে। বেড দখলের হার ছিল ১০২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া ৬ হাজার ৪৫৮টি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, ২১৮টি ইসিজি, ৬২টি আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ৯৯টি এক্স-রে সরবরাহ করা হয়। তবে সেপ্টেম্বরে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।
সেবাগ্রহীতারা বলছেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হলেও রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসাসেবার পরিধি এখনও সীমিত। স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও পর্যাপ্ত লোকবল ও চিকিৎসক না থাকায় দারুণ হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে এখনো ৩১ শয্যার জনবল বিদ্যমান থাকায় খুঁড়িয়ে চলছে।
তাদের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো এবং আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সংযোজন করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটি উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাসে ১৪ হাজারের বেশি রোগীর চিকিৎসা নেওয়া সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের নির্ভরতার চিত্রটি উঠে আসে। তবে রোগীর চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামো, জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না বাড়ালে সেবার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু শয্যা বাড়ালেই হবে না, এর সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধাও বাড়াতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, বিশাল উপজেলার জনসংখ্যার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী হাটহাজারীর একাংশ এখানে চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল। ফলে রোগীর প্রচণ্ড চাপ এবং আগের জনবলেই রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, শিগগিরই ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হবে।
সময়ের আলো/জোই