২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের চালানো হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ইসরায়েলজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। হামলায় নিহতদের স্মরণে বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহর ও আক্রান্ত এলাকায় স্মরণসভা, প্রার্থনা এবং নীরবতা পালনের আয়োজন করা হয়।
তিন বছর আগে ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন। এছাড়া ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস। হামলাটিকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর পরপরই গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার আওতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি থামেনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের অভিযান মূলত হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর এবং হামলার শিকার এলাকাগুলোতে নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে। হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির শিকার কিবুতজ কাফার আজা এলাকায় নীরবতা পালন ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। হামলার পর বাস্তুচ্যুত হওয়া অনেক বাসিন্দা এখনো নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।
এদিকে হামলার দিন শত শত মানুষ নিহত হওয়া নোভা সংগীত উৎসবের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে নিহতদের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও পরিচিতজনরা জড়ো হয়ে তাদের প্রিয়জনদের স্মরণ করেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত তিন বছর পরও ইসরাইল ও গাজার মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। হামলার বার্ষিকী ঘিরে ইসরায়েলে নিহত ব্যক্তি, জিম্মি এবং সেই দিনের ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ