উরুগুয়ের বিশ্বকাপ সংখ্যা দুটি, অথচ তাদের জার্সিতে রয়েছে চারটি স্টার! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, কেন উরুগুয়ের জার্সিতে চারটি স্টার ব্যবহার করা হয়?
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাধারণত প্রতিটি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য জার্সিতে একটি করে স্টার ব্যবহার করা হয়। সেই হিসাবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের জার্সিতে থাকার কথা দুটি স্টার। কিন্তু তাদের জার্সিতে কেন চারটি স্টার? এর পেছনে রয়েছে প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো ইতিহাস।
বিষয়টি বুঝতে হলে ফিরতে হবে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুরও আগে।
আধুনিক ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয় ১৯৩০ সালে। তবে তারও আগে, ১৯০০ সাল থেকেই অলিম্পিক গেমসে পুরুষদের ফুটবল ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় একটি প্রতিযোগিতা। তখন আলাদা করে ফিফা বিশ্বকাপ চালু না থাকায় অলিম্পিকই ছিল ফুটবলের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ।
এই প্রেক্ষাপটে ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে স্বর্ণপদক জেতে উরুগুয়ে। শুধু স্বর্ণপদক জয়ই নয়, সে সময়ের শক্তিশালী ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে পাওয়া সাফল্যও উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পায়। এই দুই অলিম্পিক জয়কে তারা নিজেদের ফুটবল ঐতিহ্যের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করে।
এরপর ১৯৩০ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে উরুগুয়ে। আর ১৯৫০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের হারিয়ে জয় করে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। অর্থাৎ বিশ্বকাপের হিসাবে তাদের শিরোপা দুটি—১৯৩০ ও ১৯৫০।
কিন্তু উরুগুয়ের কাছে গল্পটা শুধু দুটি বিশ্বকাপের নয়। ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক এবং ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ—এই চার অর্জনকেই তারা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখে। তৎকালীন সময়ে অলিম্পিক ফুটবলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদায় দেখা হতো। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবেই দুটি বিশ্বকাপ জিতেও উরুগুয়ের জার্সিতে রয়েছে চারটি স্টার।
সময়ের আলো/জেডআই