কক্সবাজারের উখিয়ায় বন বিভাগ পৃথক অভিযানে ১২টি বক জীবিত উদ্ধার,২ টি বালুভর্তি ড্রাম্পার গাড়ি জব্দ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর সকালে উপজেলার মাছকারিয়া বিল এলাকায় পরিচালিত অভিযানে শিকারিদের ব্যবহৃত ফাঁদ, জাল ও বিভিন্ন শিকার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংস করা হয়েছে শিকারিদের তৈরি আস্তানা। এ সময় ফাঁদে আটকে থাকা ১২টি বক জীবিত উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাছকারিয়া বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির বক ও দেশীয় পাখি শিকারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উখিয়া রেঞ্জের বনকর্মী ও ইআরটি (ইকো-রেসপন্স টিম) সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।
অভিযানকালে শিকারিরা পাখি আকর্ষণের জন্য কর্কশিট দিয়ে তৈরি নকল বক ব্যবহার করে তৈরি করা ফাঁদ শনাক্ত করা হয়। পরে এসব ফাঁদ, জাল ও অন্যান্য শিকার সামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি শিকারিদের অবস্থানের জন্য তৈরি অস্থায়ী আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
উদ্ধার করা ১২টি বককে পরবর্তীতে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, পাখি শিকার শুধু বন্যপ্রাণীর ক্ষতিই করে না, এটি আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। মাছকারিয়া বিলসহ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পাখি শিকার বন্ধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ বন্যপ্রাণী শিকার, ফাঁদ পাতা কিংবা শিকারিদের সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধার করা পাখিগুলোকে নিরাপদে অবমুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও স্থানীয়দের সচেতন করা হচ্ছে।
এদিকে একই দিন ভোরে থাইংখালী বনবিট এলাকায় উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মন্নানের নেতৃত্বে দোছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি, থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ, মোছার খোলা বিট কর্মকর্তা দীপক চাকমা, জালিয়া পালং বিট কর্মকর্তা রোকন উজ্জামানসহ একদল বনকর্মী অভিযান চালিয়ে বালিভর্তি দুটি অবৈধ ডাম্পার গাড়ি জব্দ করেন।
সময়ের আলো/জোই