চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পিতার ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে দেওয়ার পরও ভাইয়ের স্ত্রীকে দেওয়া জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন তহুরা খাতুনের বিরুদ্ধে তার ভাবি নাছিমা খাতুন (৪৪)। জমির মালিকানা ও দখল রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আলমডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাছিমা খাতুন বলেন, তার শ্বশুরের এক ছেলে ও ১০ মেয়ে। আলমডাঙ্গা থানার রুইথনপুর মৌজায় শ্বশুরের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমির অংশ থেকে তার স্বামী আসাদুল হক ঠান্ডু ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর ৭২৫১/১৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৭ শতক ২৫ পয়েন্ট জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।
নাছিমা খাতুন বলেন, তার ননদ তহুরা খাতুন পিতার ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ১১ শতক জমি ২০০২ সালের ২৪ অক্টোবর ৭৪৮৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন। নিজের প্রাপ্ত অংশের জমি বিক্রি করে দেওয়ার পরও তহুরা খাতুন তার নামে রেজিস্ট্রি করা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, জমি দখলের চেষ্টা ঠেকাতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে আদালত উভয় পক্ষকে স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরও গত ৫ সেপ্টেম্বর তহুরা খাতুন, তার ছেলে তোতাসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন।
এ সময় জমিতে ইট ফেলে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পাশাপাশি টিনের ছাপরা, বিচালির গাদা ও পাটখড়ির গাদা দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নাছিমা খাতুন আরও বলেন, জমিতে দখল ঠেকাতে গেলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ বিষয়টি তদন্তের জন্য হাপানিয়া পুলিশ ক্যাম্পে পাঠায়। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ক্যাম্পে উপস্থিত হতে বলা হলেও তহুরা খাতুন সেখানে উপস্থিত হননি।
সংবাদ সম্মেলনে নাছিমা খাতুন তার নামে রেজিস্ট্রি করা জমির মালিকানা ও দখল রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
এবার সংবাদটিতে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যই কেন্দ্রীয় বিষয় রাখা হয়েছে; অপ্রয়োজনীয় নিরপেক্ষতার ভাষা ঢোকানো হয়নি এবং একই অভিযোগ বারবার পুনরাবৃত্তিও করা হয়নি।
সময়ের আলো/জোই