গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে প্রায় ৫০ হাজার নারী ও মেয়ে নিহত হয়েছেন অথবা গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৩৮ হাজারের বেশি। এ ছাড়া ১১ হাজার ৭০০ নারী ও মেয়ে এমন গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, যার কারণে তাদের সারাজীবন প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। গাজার প্রতি ২১ জন নারী ও মেয়ের মধ্যে একজন এই হতাহতের শিকার হয়েছেন।
শুক্রবার জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউএন উইমেনের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান সোফিয়া কাল্টর্প এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দুই বছরেই অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত আরও ২৭৭ নারী ও মেয়ে নিহত হয়েছেন।
ঘরছাড়া প্রায় ১০ লাখ নারী ও মেয়ে
যুদ্ধের কারণে গাজায় প্রায় ১০ লাখ নারী ও মেয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই এখনো বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। অনেকেই তাঁবুতে কিংবা নিজেদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
সোফিয়া কাল্টর্প জানান, গাজায় নারীপ্রধান পরিবারের সংখ্যাও আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে প্রতি চারটি পরিবারের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন নারী। যুদ্ধের কারণে পরিবারের সদস্যদের হারানো এবং জীবিকা নির্বাহের দায়িত্ব তাদের ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাড়ছে দারিদ্র্য ও নারী নির্যাতন
ইউএন উইমেন জানিয়েছে, অর্থায়ন কমে যাওয়ায় গাজায় নারীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন মারাত্মক সংকটে পড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১৪টি সংগঠনের মধ্যে ১৩টি জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী তারা আর প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারছে না।
জরিপে অংশ নেওয়া সব সংগঠনই জানিয়েছে, ২০২৫ সালের পর থেকে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, দারিদ্র্য ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংকট বেড়েছে। এ ছাড়া ১৩টি সংগঠন বাল্যবিবাহ বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান
গাজার নারী ও মেয়েদের দুর্দশা কমাতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইউএন উইমেন।
সোফিয়া কাল্টর্প বলেন, গাজায় নারীরা ভয়াবহ সম্মিলিত দুর্ভোগ ও অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁরা যে সাহস, সহনশীলতা ও মানসিক শক্তির পরিচয় দিচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে কোনো নারীরই এমন পরিস্থিতি একা বহন করার কথা নয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ