২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই অতীতে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর তার এই ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ৮৫ বছর বয়সী পিল্লাইকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নোবেল কমিটি তার বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেছে।
ইসরায়েল নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক
নাভি পিল্লাই ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করায় তিনি বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য তার কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তাদের দাবি ছিল, হামাসের কর্মকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত না করে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তদন্ত পরিচালনা করায় সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গাজায় গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পিল্লাই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন।
টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সিদ্ধান্ত দেয় যে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। পিল্লাইও সে সময় বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার কর্মকাণ্ড গণহত্যা সনদের সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে ইসরায়েল গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গণহত্যা সংঘটনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ ধরনের অভিযোগ এবং তদন্তের ফলাফল নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কও রয়েছে।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাতেও দায়িত্ব পালন
নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় তিনি আদালতের অস্থায়ী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মানবাধিকার রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা এবং গুরুতর অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনই এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের স্বীকৃতি পেয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ