ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে শাহনাজ নামে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী হাসানের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে ঘরের ভেতর থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
নিহতের বড় মেয়ে তাহমিনার দাবি, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে শাহনাজ ও তাঁর স্বামী হাসান বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। অন্য একটি কক্ষে ছিল তাঁদের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে তাহমিনা, ছোট মেয়ে ও দাদি। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে পাশের কক্ষে গিয়ে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায় তাহমিনা। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
তাহমিনার অভিযোগ, তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হত। কয়েক দিন আগেও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। বাবার সন্দেহের কারণেই মাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তার। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, প্রায় ১৫ বছর আগে হাসান ও শাহনাজ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন। তাঁরা সম্পর্কে আপন খালাতো ভাইবোন ছিলেন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের এমন পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন ও কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এদিকে, স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হাসানকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সময়ের আলো/এনএন