দেবিদ্বারে পুলিশ দেখে নারীর স্ট্রোক, ৩ দিন পর মৃত্যু

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মামলার তদন্তে বাড়িতে পুলিশ আসার পর ছেলেকে গ্রেফতার আতঙ্কে হাসনা বেগম (৫৬) নামে এক নারী স্ট্রোক করেন বলে

2026-10-10T09:41:04+00:00
2026-10-10T09:41:04+00:00
 
  শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬,
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
দেবিদ্বারে পুলিশ দেখে নারীর স্ট্রোক, ৩ দিন পর মৃত্যু
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ এএম 
হাসনা বেগম। ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মামলার তদন্তে বাড়িতে পুলিশ আসার পর ছেলেকে গ্রেফতার আতঙ্কে হাসনা বেগম (৫৬) নামে এক নারী স্ট্রোক করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিন দিন ধরে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

মারা যাওয়া হাসনা বেগম দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের নেহাল কাজী বাড়ির আব্দুল আজিজের স্ত্রী। শুক্রবার বাদ আসর পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ির পাশের একটি গর্তের পানি সেচে মাছ ধরছিলেন আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শুভ। এ সময় একই বাড়ির ট্রাক্টরচালক নবী নেওয়াজ (৩৮) মাছগুলো ফেলে দিয়ে নিজে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ নিয়ে শুভ ও স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিকেলে নবী নেওয়াজ ২০ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে শুভদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

হামলায় শুভ ও তার বাবা আক্তার হোসেন আহত হন। আক্তার হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং তার সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পায়ের একটি ক্ষতস্থানে ৩৮টি সেলাই দিতে হয় বলে পরিবার জানায়। এ ঘটনার পর গ্রামবাসী ধাওয়া করে হামলাকারীদের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর আক্তার হোসেনের ছোট ভাই আল আমিন বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মামলা করেন।


পরিবারের দাবি, মামলার পর প্রতিপক্ষ নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে এবং নবী নেওয়াজও পাল্টা একটি অভিযোগ করেন। গত ৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী তদন্তের জন্য ভূষণা গ্রামে যান। সেখানে তিনি প্রথমে আসামিপক্ষের বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে পরে বাদীপক্ষের বাড়ির দিকে যান। পুলিশ দেখে হাসনা বেগম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে প্রতিপক্ষের করা অভিযোগে তার ছেলেকে গ্রেফতার করতে আসা হয়েছে। তিনি ছেলেদের সরে যেতে বলে চিৎকার শুরু করেন এবং একপর্যায়ে স্ট্রোক করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে স্বজনেরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তার মৃত্যু হয়।

মামলার বাদী আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, আমার মা পুলিশ দেখে গ্রেফতার আতঙ্কে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষের হয়ে কাজ করছেন এবং মামলা দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। এ কারণেই আটক আসামি আদালতে জামিন পেয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অজয় চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ বাদী নিজেই লিখেছেন। ওসির নির্দেশে তদন্তভার আমার ওপর এসেছে। তদন্তে দাঁত ভাঙা বা কাটা-ছেঁড়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে চার্জশিটে তা উল্লেখ করা হবে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত বা দাঁত ভাঙার বিষয় উল্লেখ থাকার কথা। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক এবং বাদীর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   দেবিদ্বার  পুলিশ  নারী  স্ট্রোক  মৃত্যু  সময়ের আলো  কুমিল্লা  দেবিদ্বার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: