সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন—খালি পেটে পানি পান করলে দ্রুত ওজন কমে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং মস্তিষ্ক চাঙা থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সকালের পানি পানের নানান চমকপ্রদ কার্যকারিতা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা দেখা যায়। তবে প্রশ্ন হলো—এসব দাবির পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে?
স্বাস্থ্যবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরীর সুস্থ রাখতে দিনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে দিনের ঠিক কোন নির্দিষ্ট সময়ে পানি পান করা হচ্ছে, তা স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ বা অলৌকিক কোনো প্রভাব ফেলে—এমন জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।
সকালে পানি পান ও পানিশূন্যতা
রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর কারণে শরীরে নতুন করে পানি প্রবেশ করে না। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে রাতের পানির অভাব কিছুটা পূরণ হতে পারে। তবে সকালে প্রস্রাবের রং সামান্য গাঢ় হলেই শরীরে মারাত্মক পানিশূন্যতা তৈরি হয়েছে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়; দীর্ঘ সময় পানি না পানের কারণে প্রস্রাব স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ঘন হতে পারে। সাধারণত তৃষ্ণা লাগাই শরীরের পানির চাহিদা বোঝার সবচেয়ে বড় সংকেত।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম)
ওজন কমানো বা মেটাবলিজম বাড়ানোর কৌশল হিসেবে অনেকেই সকালে খালি পেটে ঠান্ডা পানি পানের পরামর্শ দেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পানি পান করলে বা ঠান্ডা পানি শরীরের তাপমাত্রায় পৌঁছাতে সামান্য ক্যালরি খরচ হয় ঠিকই, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়। পানি পানের নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে সারাদিনে মোট কতটা পানি পান করা হচ্ছে এবং খাদ্যাভ্যাস কেমন, সেটাই আসল। বিশেষ করে চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে পানি পানের অভ্যাস ক্যালরি গ্রহণে ভারসাম্য আনে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মনোযোগ
শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে মনোযোগহীনতা, কাজে ভুল হওয়া বা স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে দিনের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে মস্তিষ্ক বেশি কার্যকর হয়ে উঠবে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। সারাদিন ধরে প্রয়োজনীয় পানির ভারসাম্য বজায় রাখাই মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকারিতার জন্য যথেষ্ট।
সকালে খালি পেটে পানি পান করা নিঃসন্দেহে একটি ভালো ও সুস্থ অভ্যাস। তবে এটিকে ওজন কমানো কিংবা মেটাবলিজম রাতারাতি বাড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ কোনো অলৌকিক উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। নির্দিষ্ট কোনো সময় মেনে চলার চেয়ে সারাদিনে শরীর ও আবহাওয়া অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং তৃষ্ণা পেলে পানি পান করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/জোই