রাজধানীর ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও লুটের ঘটনায় এক কোটি টাকার চুক্তির তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত ২৬ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় লোক ভাড়া করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিমকে। গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হামলার পরিকল্পনা করা হয়। এর সঙ্গে ফ্ল্যাট উপহার ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও যুক্ত ছিল।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি স্থানীয় খাবারের দোকানে প্রায় ১৩ জনের বৈঠক হয়। সেখানে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ। ওই বৈঠকে গ্রেফতার হওয়া শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। আবাসন প্রকল্পের একটি মূল ফটক ভেঙে চলাচলের রাস্তা তৈরির দায়িত্বে থাকা শাহরিয়ারকে এক কোটি টাকার বিনিময়ে স্থানীয় অপরাধী চক্রকে ভাড়া করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরিয়ার এ কাজে ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের খাতায় ‘কিলার ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত বলে উল্লেখ করা এই ইব্রাহিম তার অনুসারী যুবরাজসহ অন্যদের হামলার জন্য লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া পল্লবীর বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনীর লোকজনকেও হামলায় যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিউগিনি প্রকল্পের পাশের ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধই হামলার মূল কারণ। ওই জমিতে কন্ডোমিনিয়াম ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু জমি থেকে মূল সড়কে যাওয়ার বৈধ রাস্তা না থাকায় নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের প্রধান ফটক ভেঙে জোরপূর্বক চলাচলের পথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়।
সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা তৈরির কাজ সফল হলে শাহরিয়ারকে প্রকল্পের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ভবনে ইট-বালু সরবরাহের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী এর আগে গ্রেফতার হয়ে রিমান্ড শেষে জামিনে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ২০০ জন হামলাকারী পাঁচটি পিকআপে করে ও হেঁটে প্রকল্প এলাকায় এসে হামলা চালায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। হামলায় ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করা যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু ও বুকপোড়া সুমন সরাসরি অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেফতার আসামিদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : প্রথম আলো
সময়ের আলো/জেডি