প্রতিবাদের প্রেতাত্মার ভয়ে ঘুম হারাম বিজেপির

অপূর্বানান্দ শিক্ষক, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক

যে ভয় পায়, সে-ই আসলে স্লোগানকারীদের লাঠি ও বন্দুকের ভয় দেখায়। তা সত্ত্বেও সেøাগান কিন্তু উঠেই চলেছে। মোদি সরকার চাইলে

2026-10-12T05:47:07+00:00
2026-10-12T05:47:07+00:00
 
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
প্রতিবাদের প্রেতাত্মার ভয়ে ঘুম হারাম বিজেপির
অপূর্বানান্দ শিক্ষক, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
যে ভয় পায়, সে-ই আসলে স্লোগানকারীদের লাঠি ও বন্দুকের ভয় দেখায়। তা সত্ত্বেও সেøাগান কিন্তু উঠেই চলেছে। মোদি সরকার চাইলে নিজের কানে বুলেটের ছিপি এঁটে রাখতে পারে যাতে কিছু শুনতে না পায়। কিন্তু বাকি সবাই তা স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছে। শনিবার দিল্লির রাজপথের দৃশ্য থেকে একটা বিষয় একেবারেই পরিষ্কার ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারকে জনগণ এখন থেকে আর এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেবে না। 

এই সরকার তার ঘুম হারিয়েছে। তারা চারদিকে শুধু বিরোধী দেখতে পাচ্ছে। প্রতিবাদের প্রেতাত্মা তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রাস্তার প্রবেশপথগুলোতে উঁচু ব্যারিকেড আর শত শত পুলিশকর্মীর সজাগ দৃষ্টি এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যে, হে হেঁটে যাওয়া যেকোনো সাধারণ মানুষের পক্ষেই জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া পার পাওয়া অসম্ভব ছিল। পুলিশের কাছে কারোর জবাবে সামান্যতম সন্দেহ জাগলেই তাকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।

অথবা বলা যায়, হেঁটে যাওয়া প্রতিটি মানুষই যেন পুলিশের চোখে এক একজন সন্দেহভাজন। আমার ছাত্ররা আমাকে জানাল, মিন্টো ব্রিজে যখন তারা পকোড়া খাচ্ছিল, সেখান থেকেই পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে গেছে। তারা আরও দেখেছে, এক যুবককে পাবলিক টয়লেট থেকে ধরে টেনে-হিঁচড়ে বের করা হচ্ছে, যেখানে সে কেবল প্রাকৃতিক কাজ সারতে গিয়েছিল। 

আমরা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসে থাকি। আমি আর আমার স্ত্রী ভাবছিলাম কীভাবে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানো যায়। আমরা জানতাম সেখানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। একই সঙ্গে আমাকে কলকাতার ফ্লাইটও ধরতে হবে, তাই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া বিজ্ঞের মতো কাজ হতো না। 

কিন্তু আমরা এই প্রতিবাদের অংশ হতে মুখিয়ে ছিলাম। আমাদের দিনটি শুরু হয়েছিল এক বন্ধুর বার্তার মাধ্যমে, যে জানতে চেয়েছিল আমরা ঠিক আছি কি না। সে আমাদের আরও কয়েকজন বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিল, যেগুলোর কোনো জবাব মেলেনি। আমি তাকে বললাম, হতে পারে তারা ফোন বন্ধ করে রেখেছে, কারণ পুলিশ পরিচিত সব ভিন্নমতালম্বীদের খুঁজছে।

এরপর এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বন্ধু ফোন করে জানতে চাইলেন যন্তরমন্তরে কীভাবে পৌঁছানো যায়। তিনি বললেন, গাড়ি যদি না চলে, তবে তিনি হেঁটেই যাবেন। এর কিছুক্ষণ পরেই আমাদের ফোন বেজে উঠল। ফোন করেছিলেন বিখ্যাত লেখিকা নয়নতারা সহগলের কন্যা গীতা সহগল। 

তিনি জানতে চাইলেন দিল্লিতে কী অবস্থা। ভারতের এই বিদগ্ধ নারী এই অন্যায়ের দানবের বিরুদ্ধে লড়াইরত তরুণদের আশীর্বাদ জানাতে ফোন করেছিলেন। আমাদের এখন কী করার ছিল? আমরা জানতাম দিল্লির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং অন্যান্য সব রাজ্য ও শহরের পুলিশ ইতিমধ্যেই গলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাস্তায় কোনো তরুণকে দেখলেই পুলিশ তাকে আতশকাচের নিচে ফেলছে আর ভাবছে— এও কি ১০ তারিখে যন্তরমন্তরের বিক্ষোভে যাচ্ছে?

সরকারের চোখে প্রতিটি নাগরিকই ছিল সম্ভাব্য প্রতিবাদী : দিল্লি পুলিশ রাজধানীর রাস্তায় হেঁটে যাওয়া প্রতিটি মানুষের পদচিহ্ন মেপে দেখার চেষ্টা করছিল, তারা যন্তর মন্তরের দিকে মোড় নিচ্ছে কি না। এই মুহূর্তে সরকারের চোখে যেন প্রতিটি মানুষই একজন সম্ভাব্য আন্দোলনকারী। পুরো দিল্লি শহরকে যেন একটা সেনাঘাঁটিতে পরিণত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু-কাশ্মির এবং ছত্তিশগড় থেকে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ উড়িয়ে আনা হয়েছে। 

প্রায় ২০,০০০ আধা-সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই দিল্লিতে মোতায়েন ছিল, তার ওপর আরও ১২,০০০ জওয়ান আনা হচ্ছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। যাদের গ্রেফতার করা হবে, তাদের আটকে রাখতে ১০টি সাময়িক আটক কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। ওলা এবং উবারের মতো ক্যাব কোম্পানিগুলোকে ১০ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে দিল্লির রাস্তায় গাড়ি না নামাতে বলা হয়েছিল।

হোটেলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কোনো অতিথি যেন না তোলে। শহরের দুটি প্রধান রেল স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়। বন্ধ রাখা হয়েছিল ৫৭টি মেট্রো স্টেশন। প্রায় প্রতিটি রাস্তায় উঠে গিয়েছিল ব্যারিকেড। দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোর পাঠদান অনলাইনে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। 

কিন্তু ইন্টারনেট ছাড়া এই অনলাইন ক্লাস কীভাবে চলবে? সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিল না। ক্যাম্পাসগুলোর চারপাশে পুলিশের ভারী পাহারা বসানো হয়। সরকারের ভয় ছিল, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। তাই ক্লাস অনলাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ের চারপাশেও ছিল পুলিশের কড়া পাহারা। এদিকে বেশ কয়েকজন ইউটিউবার অভিযোগ করেন, সরকারের সমর্থনে ভিডিও বানাতে পুলিশ তাদের ফোন করে যন্তরমন্তরে যেতে বলেছে এবং এর জন্য তাদের টাকাও দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি পরিষ্কার— সরকার আর দেশের সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করে না। 


অথবা বলা ভালো, সাধারণ জনগণের ওপর তাদের আর আস্থা নেই। সরকারের অনুগত সমর্থকরা— যাদের অনেকের বিরুদ্ধে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে— প্রকাশ্যেই ভিডিও বানাচ্ছিল এবং যন্তরমন্তরের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তারা সরকারের বিরোধীদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল। পুলিশ কেন সহিংসতা সৃষ্টিকারী এই গুন্ডাদের গ্রেফতার করছিল না? সাধারণ মানুষকে যারা এই আন্দোলনে যোগ দিতে পারে— কেবল এই সন্দেহে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, অথচ এই দুষ্কৃতদের দিব্যি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ কি এই যে তারা পুলিশের অনুগত? এরাই তো তারা, যারা সেøাগান দিচ্ছিল, ‘দিল্লি পুলিশ লাঠি চালাও, আমরা তোমাদের পাশে আছি।’

তাই আজ যারা লাঠি হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা মুক্ত, আর যারা কেবল চিন্তা ও আদর্শে বিশ্বাসী তারা জেলে। শত শত তরুণকে আটক করা হয়েছে; প্রকৃত সংখ্যা হয়তো আরও অনেক বেশি, কারণ পুলিশ যেখানেই যাকে পেয়েছে তুলে নিয়ে গেছে। বহু বাড়িতে পুলিশ গিয়ে আস্তানা গেড়ে বসে রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। কোনো আদালতের নির্দেশ ছাড়াই পুলিশ সদস্যরা ঘরে ঢুকে জাঁকিয়ে বসছে। বিগত ১৩ বছরে এটিই যেন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এমনকি আদালতগুলোরও এতে কোনো আপত্তি নেই! মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে যখন একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ (অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে পিটিশন) আবেদন করা হয়, তখন বিচারকরা তা খারিজ করে দেন। 

বিচারকরা বলেন, পুলিশের উচিত এদের মা-বাবার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া। ভেবে দেখুন, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই পুলিশ গায়েব করে দিচ্ছে, অথচ আদালত তাতে কোনো অন্যায় দেখতে পাচ্ছে না! উল্টো আমাদের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সহজ কথায়, পুলিশ চাইলে আপনাকে যতদিনের জন্য ইচ্ছা গায়েব করে দিতে পারে।

একইভাবে, সুপ্রিম কোর্টও মনে করে যে সরকারের দিল্লিকে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে ফেলাটা একবারে যুক্তিযুক্ত। নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতার অধিকারের এখন আর কোনো মূল্য নেই, কারণ আদালত সরকারের টিকে থাকার অধিকার রক্ষাতেই বেশি উদ্বিগ্ন বলে মনে হচ্ছে। 

আদালত সাফ জানিয়েছে, প্রতিবাদের অনুমতি না থাকলে তা বেআইনি এবং সরকার তা বন্ধ করতে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। একটি আস্ত শহর স্তব্ধ করে দেওয়াকেও আদালতের কাছে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে। কিন্তু যখন একটি পুরো রাষ্ট্র তার সব শক্তি নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে এসে দাঁড়ায়, তখন তা কী প্রমাণ করে? কে বেশি শক্তিশালী? কে বেশি ভীত? যে ভয় পায়, সে-ই আসলে স্লোগানকারীদের লাঠি ও বন্দুকের ভয় দেখায়।

তা সত্ত্বেও স্লোগান কিন্তু উঠেই চলেছে। সরকার চাইলে নিজের কানে বুলেটের ছিপি এঁটে রাখতে পারে যাতে কিছু শুনতে না পায়, কিন্তু বাকি সবাই তা স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছে। আমরা যখন মডেল টাউন থেকে মেট্রো ধরলাম, তখন বিষয়টি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করলাম, কারণ বিশ্ববিদ্যালয় (বিশ্ববিদ্যালয়) মেট্রো স্টেশনের গেটগুলো বন্ধ ছিল।

মেট্রোতে আমাদের সঙ্গে এমন দুজন তরুণের দেখা হলো, যারাও যন্তরমন্তরের দিকেই যাচ্ছিল। তারা ইতিমধ্যেই যন্তরমন্তরের কাছাকাছি কোনো বের হওয়ার পথ খোঁজার চেষ্টায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়ে দিয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত এইমস স্টেশনে নেমে বাইরে এলাম। একজন সদয় অটোচালক আমাদের যতদূর সম্ভব নিয়ে যেতে রাজি হলেন।

আমরা চারজনই অটোতে চেপে বসলাম। চালক দক্ষতার সঙ্গে পুলিশের পাহারা এড়িয়ে ছোট ছোট রাস্তা দিয়ে আমাদের নিয়ে চললেন। সময় কিছুটা বেশি লাগলেও পথটুকু মন্দ ছিল না।

নিরবতার সেই গর্জনে সরকার আজ আতঙ্কিত : অবশেষে কস্তুরবা গান্ধী মা-এর মোড়ে আমাদের থামানো হলো। আমাদের মাথার পাকা চুল দেখে পুলিশ হয়তো দয়া করল, ফলে আমরা প্রেস ক্লাব পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলাম। যাত্রাপথে তিনটি জায়গায় আমাদের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল এবং এত খারাপ একটা দিনে আমরা কেন রাস্তায় নেমেছি তার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছিল। প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটক বন্ধ ছিল, তাই আমাদের পেছনের গেট দিয়ে ঢুকতে হয়। 

ভেতরে সংবাদিক বন্ধুরা একে অপরের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করছিলেন। এমন সময় এক সাংবাদিক বন্ধুর ফোন এলো। তিনি জানালেন, নেহা বোরা দিল্লি হাট থেকে একটি পদযাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। আমার স্ত্রী ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সতর্ক করল, এখনই রওনা না দিলে আমার কলকাতার ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে।

বিশ্বদীপ নামের এক সাংবাদিক বন্ধু আমাকে এইমস পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন, যেখান থেকে আমি বিমানবন্দরের মেট্রো ধরতে পারব। দিল্লি হাটের কাছে গিয়ে আমরা যানজটে আটকে গেলাম। কারণটা আমার জানা ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই চেনা কিছু মুখ দেখতে পেলাম। 

চোখাচোখি হলো, হাত নাড়ানি হলো। আমার ফোন বেজে উঠল, দেখলাম আলি শান; সে লাফিয়ে আমাদের গাড়িতে উঠে পড়ল। সে জানাল, নেহা ও যোগেন্দ্র যাদবকে আটক করা হয়েছে। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কিছু তরুণ ফ্লাইওভারের ওপর বসে পড়েছিল। গাড়ি ধীর গতিতে এগোচ্ছিল, কিন্তু দিল্লির রাস্তায় এই প্রথমবার যানজটে আটকা পড়েও আমার খারাপ লাগছিল না।

আমি আনন্দিত ছিলাম যে অন্তত এমন একটি পথের মধ্য দিয়ে যেতে পেরেছি, যা প্রতিবাদের শক্তিতে উত্তাল ছিল। আমার বন্ধু অতুল সুদ এবং নবশরন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গাড়ি থেকে নেমে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে না পারার আক্ষেপ আমার মনে রয়ে গেল। পুরবা ফোন করেছিল। অলকা নামে এক বন্ধু শেষ পর্যন্ত প্রেস ক্লাবে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। তারা চারপাশে ঘোরাঘুরি করেছিলেন কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেড পার হতে পারেননি। এক ঘণ্টা ঘোরাঘুরির পর তারা পাঞ্জাবি বাগের বাসে উঠে পড়েন। 

তা হলে এটি কি কোনো প্রতিবাদ ছিল, নাকি ছিল না? সরকার হয়তো বিজয়ের দাবি করবে, কারণ তারা যন্তরমন্তরকে একটি ‘নীরব এলাকায়’ পরিণত করতে পেরেছে। তবে নিশ্চিত থাকা যায়, সেই স্তব্ধতা ও নীরবতার যে বিকট গর্জন সবাই শুনতে পাচ্ছে, তাতেই ভেতরে ভেতরে আজ চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এই সরকার।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   প্রতিবাদ  প্রেতাত্মা  বিজেপি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: