জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (৫০ ব্যাচ) শিক্ষার্থী কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছেন। তার কক্ষ থেকে হাতে লেখা একাধিক চিঠি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু বার্তা পাওয়ার পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
তার নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পারার পরে তার কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে তার সহপাঠীরা। চিঠিগুলোতে হতাশা, পারিবারিক ও শিক্ষাজীবনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং নিজের জীবন নিয়ে চরম হতাশার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তারা জানান।
ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মুহাইমিনের সহপাঠী মিম বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে খবর পাই মুহাইমিনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তার রুমে গিয়ে আমরা হাতে লেখা চিঠি পাই। এরপর থেকে আমরা সবাই মিলে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।
বিভাগের কোনো শিক্ষকের সঙ্গে মুহাইমিনের বিরোধ বা সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ ধরনের কোনো সমস্যার কথা জানি না। তবে চতুর্থ বর্ষের একটি কোর্সে তার ফেল এসেছিল। এ কারণে চলতি বছর ওই কোর্সের রিটেক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে মাস্টার্সের ক্লাসও করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সম্ভবত এক-দুই দিন আগে তাকে জানানো হয়েছে যে চতুর্থ বর্ষের সবগুলো বিষয়ের পরীক্ষা আবার দিতে হবে। বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।
এদিকে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর কক্ষে পাওয়া চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন, শিক্ষক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার হতাশার কথা উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন সহপাঠীরা। তবে চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগ বা বিষয়গুলোর সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরপরই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
মুহাইমিনকে উদ্ধারে সহপাঠী ও সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সময়ের আলো/জোই