ভারতের মারাঠি চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও ঐতিহ্যবাহী লাভণী নৃত্যশিল্পী মধু কাম্বিকর মারা গেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) পুনেতে ৭৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই শিল্পী।
মহারাষ্ট্রের তথ্য ও জনসংযোগ অধিদপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। শোকবার্তায় বলা হয়, অভিনয় ও বহুমুখী শিল্পচর্চার মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের লোকশিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মধু কাম্বিকর। পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব পরিচিতি।
লোকশিল্প ও মঞ্চনাটক থেকে চলচ্চিত্র—বিভিন্ন মাধ্যমে বিস্তৃত ছিল তার শিল্পীজীবন। ঐতিহ্যবাহী লাভণী নৃত্যশৈলী ধরে রাখার পাশাপাশি কথক নৃত্যেও দক্ষতা অর্জন করেছিলেন তিনি। মারাঠি লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে চলচ্চিত্রের পর্দায় তুলে ধরে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান এই শিল্পী।
মধু কাম্বিকরের মৃত্যুতে তার পরিবার ও ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। একই সঙ্গে প্রয়াত এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তিনি।
লাভণী নৃত্য থেকে চলচ্চিত্রে পরিচিতি
১৯৫৩ সালের ২৮ জুলাই মহারাষ্ট্রের বীড জেলার মালেগাঁও খুর্দে জন্মগ্রহণ করেন মধু কাম্বিকর। লাভণী নৃত্যে পারদর্শিতার পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি।
‘হেচ মাজহা মাহের’, ‘রঘু মাইনা’, ‘এক হোতা বিদূষক’, ‘ঝাপাটলেলা’, ‘দেবু’ ও ‘ইয়েউ কা ঘরাত’ তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মঞ্চনাটক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন তিনি। পর্দায় মা ও শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয়ের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন এই অভিনেত্রী।
২০১৬ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে ‘লাবণ্য সংগীত’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। টানা ১২ বছর ধরে ওই অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করে আসছিলেন তিনি। অসুস্থ বোধ করলেও সেদিন পরিবেশনা থেকে সরে দাঁড়াতে চাননি মধু। পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্ট্রোকের পর চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান এই শিল্পী। ‘আভ্রাণ’ তার শেষদিকের চলচ্চিত্রগুলোর একটি। শিল্পক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
সময়ের আলো/জেডি