বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জাতীয় পর্যায়ে নানাবিধ লিগ-টুর্নামেন্ট আয়োজন তো করছেই, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আসরেও অংশ নিচ্ছে। কদিন আগে পাকিস্তান থেকে ইতিহাস গড়ে দেশে ফেরে বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ভলিবল দল। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কাভা কাপ মেনস ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়ার কীর্তি গড়ে তারা। সেই আয়োজন শেষ না হতেই পল্টনে নূর হোসেন জাতীয় ভলিবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় স্কুল ভলিবল; এখন দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আয়োজনের তোড়জোড় চলছে। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে লিগের বাছাইপর্ব, এরপর ১ নভেম্বর মূলপর্বের লড়াইয়ে নামবে ক্লাবগুলো। জাতীয় দলের পাইপলাইন তৈরির লক্ষ্যে এবারের লিগ আয়োজন, বলছেন ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন সাদ্দাম।
দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আয়োজন নিয়ে এবার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ফেডারেশন। ক্লাবগুলোর কার্যক্রমে যেমন পরিবর্তন-পরিবর্ধন আনা হচ্ছে; তেমনি খেলোয়াড়দের মাঝে পূর্ণ পেশাদারিত্ব আনতে তাদের নিবন্ধন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো আর্থিক সুবিধার আওতায় আসছেন ভলিবল খেলোয়াড়রা। এমন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় অনেকের প্রশংসা পাচ্ছে সাদ্দামের কমিটি।
এ ব্যাপারে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সময়ের আলোকে জানান, ‘ক্লাবগুলো রেজিস্ট্রেশন করার মধ্য দিয়ে ফেডারেশন একটা টাকা পাচ্ছে; এতে ফেডারেশনের আর্থিক উন্নতি হওয়ার পথ সুগম হবে। আগে যেনতেন ক্লাব কোনোমতে অ্যান্ট্রি করে লিগে অংশ নিত। তাতে না থাকত কোনো প্রতিযোগিতা, না থাকত খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা কিংবা ভলিবলের উন্নয়ন। এবার আমরা তা হতে দেব না। দ্বিতীয় বিভাগ লিগে অংশ নিতে ইতিমধ্যে অনেক বড় বড় ক্লাব আবেদন করেছে, অনেকে খেলোয়াড়দের ইতিমধ্যে চুক্তি করিয়েছে। এ ঘটনা কিন্তু দ্বিতীয় বিভাগ লিগে আগে ঘটেনি। অথচ এটা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করছে। কিন্তু প্রকৃত সংগঠক, খেলোয়াড়রা কিন্তু করছে না। দ্বিতীয় বিভাগ লিগটা শুধু সাধারণ কোনো আসর নয়, এটা জাতীয় দলের পাইপলাইন তৈরির রাস্তা।’
ভলিবল গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় খেলার একটি। শহরেও দিনকে দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভলিবলকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে সিলেবাস তৈরি করছে। এতে খেলার প্রতি কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে কিশোর-কিশোরীদের আগ্রহ আরও বাড়ছে। এ ব্যাপারে ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রথমে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। উনি ক্রীড়াকে প্রাধান্য দিয়ে অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। আমাদের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ভাই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দিন-রাত কাজ করছেন। এনএসসিতে জাহেদ পারভেজ ভাইয়ের মতো একজন যোগ্য লোককে পরিচালক পদে বসিয়েছেন। ক্রীড়া উন্নয়নে জাহেদ ভাই দারুণ সব পরিকল্পনা করছেন। আমাদের ফেডারেশন ওনাদের নির্দেশনা মেনে কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ আমরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে সাফল্য আনা শুরু করেছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে সাদ্দাম বলেন, ‘নির্বাচনে তাড়াহুড়া করলে ভুল লোকেরা আবারও জায়গা দখল করে বসবে। আমরা এনএসসির দিকনির্দেশনা মেনেই যথাসময়ে, সুষ্ঠু ও সঠিক নিয়মে নির্বাচন আয়োজন করব। সেই প্রস্তুতি আমাদের সব সময়ই আছে। তবে তৃণমূল থেকে অর্থাৎ জেলা- ক্রীড়া সংস্থা, বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা থেকে কারা কাউন্সিলর হবেন, সেসব নিয়ে অনেক কাজ বাকি আছে। আমরা নির্বাচনমুখী ফেডারেশন। আমরা কাজে বিশ্বাসী। ভলিবলের উন্নয়নই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি