কুমিল্লার চান্দিনায় ৮ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছানাউল্লাহ (৬০) নামে মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে। থানা-পুলিশকে না জানিয়ে টাকা দিয়ে এবং স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি সুরাহার চেষ্টা করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের শালিখা গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে। অভিযুক্ত মো. ছানাউল্লাহ ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও চা দোকানী।
ভুক্তভোগীর মা ও পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে শিশুটি ছানাউল্লাহর দোকানের সামনে গেলে তাকে বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর দোকানের ভেতর শিশুটিকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে শিশুটি সেখান থেকে পালিয়ে এসে তার পরিবারকে ঘটনাটি জানায়।
ভুক্তভোগী শিশুর চাচা সফিউল্লাহ জানান, ঘটনার দিন বিকেলে ছানাউল্লাহ শিশুটির বাবার হাতে ৩ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ভুলে যেতে বলেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বরকে জানান। তারা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।
সফিউল্লাহ বলেন, সোমবার দুপুরে সালিশ বৈঠকে ছানাউল্লাহকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে, শিশুর পরিবার এ সিদ্ধান্তে রাজি না হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না- এমন শর্তে স্ট্যাম্পে উভয়পক্ষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তার দাবি, নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি এক লাখ টাকা পরে পরিশোধের কথা বলা হয়। তা গ্রহণ না করে ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেন সফিউল্লাহ।
সফিউল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, সালিশের সিদ্ধান্তে রাজি না হওয়ায় মাতব্বর মো. মনির হোসেন মুন্সীসহ কয়েকজন তাদের এলাকায় থাকতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। তারা এখন আইনের মাধ্যমে বিচার চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সালিশে উপস্থিত এক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা সালিশের রায় প্রদানকারী মাতাব্বর মনির হোসেন মুন্সীর হাতে দেওয়া হলেও ভুক্তভোগী পরিবার পেয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। পরে ওই ১০ হাজার টাকাও পরিবারটি ফেরত দিয়েছে।
সালিশের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মনির হোসেন মুন্সী বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি এবং জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া ভিন্ন বিষয়, আমরা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এতে কাউকে হুমকি ধমকি দেওয়া হয়নি।’
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সময়ের আলো/মহু