কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা মামলায় কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে ঘিরে একদিনের ব্যবধানে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে আটকের পর সোমবার তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয়, যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে কক্সবাজারে একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য যাচাই করতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির একটি দল কক্সবাজারে গিয়ে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে বিকেলে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার কাছে হস্তান্তর করা হলে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে। তবে এই হত্যায় রাজুর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে স্থানীয় লোকজন রাজুকে আটক করে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। ওই সময় কোনো মামলা না থাকায় এবং আমলযোগ্য অপরাধের আশঙ্কায় তাকে ৫৪ ধারায়গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা ডিবির উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার কক্সবাজার সদর থানায় একটি অধিযাচনপত্র দেন। এতে বলা হয়, তাজমীনের মোবাইলফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে ঘটনার দুদিন আগে কক্সবাজারে তার অবস্থানের তথ্য মেলে। এ সময় রাজুর সঙ্গে তার দেখা হওয়া এবং একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের যোগাযোগের কারণ ও মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য আছে কি না, তা জানতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, রাজুকে কুমিল্লায় আনা হয়নি, বরং কক্সবাজারেই তাকে কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হোটেলসংক্রান্ত কিছু বিষয়ও তদন্তের আওতায় ছিল। তাজমীনের বাবা-মা চাইলে রাজুর বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে পারবেন। অন্যদিকে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, অধিযাচনপত্রের ভিত্তিতে রাজুকে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের পর ডিবি তাকে ফিরিয়ে দিলে পুলিশ আদালতে পাঠায়।
এদিকে, রাজুর বিরুদ্ধে নিজের আসল পরিচয় গোপন করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজু নিজেকে একটি হোটেলের মালিকের ছেলে ও স্নাতক পাস বলে পরিচয় দিয়ে তাজমীনের বিশ্বাস অর্জন করতেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি একটি গেস্টহাউসের কর্মচারী এবং এসএসসি পাসও করেননি। প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে তিনি কক্সবাজারে নিয়ে এসেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য মিলেছে। অন্য মেয়েদের সঙ্গেও এমন প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি খেত থেকে ১৫ বছর বয়সী তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সিএনজিচালক সুমন ধর্ষণের পর তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।