দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের আর্থ-সামাজিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধনের পর সারা দেশের ন্যায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৮ নম্বর ওয়ার্ডেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন নিয়োজিত কর্মীরা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪১ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে ভাতা প্রদানে।
সমাজসেবা অধিদফতরের শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৬, মোহাম্মদপুরের আওতাধীন ডিএনসিসির ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে সব পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাই করে কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম হলে নারী পরিবারপ্রধানকে ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচনা করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলেও ভাতা পাবেন প্রথম তিন শ্রেণির যোগ্য পরিবারগুলো।
তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ডিভাইস ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন তথ্যভান্ডারে যুক্ত হবে। এ জন্য তথ্য সংগ্রহের নির্দেশিকা প্রণয়ন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সমাজসেবা কার্যালয়।
এর আগে গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা উপকারভোগীদের ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ডে থাকবে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা। কার্ডটি সরকারের ‘টাকা পে’ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন উপকারভোগীরা।
সমাজসেবা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় জানিয়েছে, পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবারের স্থানীয় কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব), অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ