ইসরায়েলের সঙ্গে চলতি বছরের যুদ্ধে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়া বা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়া লেবাননের পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে হিজবুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান আলী দামুশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈরুত ও এর দক্ষিণ উপশহরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মোট ১৪ হাজার ডলার দেওয়া হবে। এর মধ্যে আসবাবপত্র কেনার জন্য ৮ হাজার ডলার এবং বাড়িভাড়া বাবদ ৬ হাজার ডলার বরাদ্দ থাকবে।
লেবাননের অন্যান্য এলাকার পরিবারগুলো পাবে ১২ হাজার ডলার। এর মধ্যে আসবাবপত্রের জন্য ৮ হাজার ডলার এবং বাড়িভাড়া বাবদ ৪ হাজার ডলার দেওয়া হবে। ২০২৪ সালেও একই হারে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
দামুশ জানান, যেসব পরিবারের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, বসবাসের অনুপযোগী বলে বিবেচিত হয়েছে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা এ সহায়তার আওতায় আসবে। এ ছাড়া ইসরায়েলের দখল করা এলাকা বা সংলগ্ন স্থান থেকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তবে সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিবারের স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের অন্য কোনো বাড়ি থাকা যাবে না। ফলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশযাপনের বাড়ি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তির জন্য এ সহায়তা প্রযোজ্য হবে না।
চার কিস্তিতে দেওয়া হবে অর্থ
হিজবুল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে চার কিস্তিতে পরিবারগুলোর হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তিতে বৈরুত ও এর দক্ষিণ উপশহরের পরিবারগুলো ৩ হাজার ৫০০ ডলার এবং অন্যান্য এলাকার পরিবারগুলো ৩ হাজার ডলার পাবে।
প্রতিটি বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়ন করে সহায়তার যোগ্যতা ও অর্থের ধরন নির্ধারণ করা হবে বলে জানান দামুশ।
ইরান থেকে ২০ কোটি ডলার পাওয়ার দাবি
এর আগে গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, বাস্তুচ্যুত লেবানিজ পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য ইরান থেকে ২০ কোটি ডলার পেয়েছে হিজবুল্লাহ। অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সরাসরি অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে অর্থটি হিজবুল্লাহর কাছে পৌঁছায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি নাকচ করে বলেছে, ইরানের কাছ থেকে এ ধরনের অর্থ পাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। এ বিষয়ে ইরানও কোনো মন্তব্য করেনি।
মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে ইরানের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার প্রতিবেদন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান দামুশ। আবাসন সহায়তার জন্য হিজবুল্লাহ মোট কত অর্থ ব্যয় করবে, সে বিষয়েও তিনি কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ জানাননি।
যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ
গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে আঞ্চলিক যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর ইসরায়েলের হামলা ও স্থল অভিযান লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে। এতে হিজবুল্লাহর সমর্থক শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করে উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়।
যুদ্ধের কারণে বাড়িঘর হারানো পরিবারগুলোর আবাসন ও পুনর্বাসন ব্যয় মেটাতে হিজবুল্লাহর নতুন এ সহায়তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ