মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তপশীল অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় মুখর ঠাকুরগাঁও সদর, ভুল্লী ও রুহিয়া উপজেলা। এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম, খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
দিন-রাত সমানতালে উপনির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। তারা ভোটারদের দ্বারে গিয়ে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি দিচ্ছেন এলাকার উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। তবে ভোটাররা বলছেন, এলাকার উন্নয়নের পাশপাশি যারা বেকারত্ব দূর করার কাজ করবে এমন প্রার্থীকেই তারা বেছে নেবেন। এই আসনে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি। তাই প্রার্থীরা নারী ভোটারদের কাছে টানতে দিচ্ছেন নারীদের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি। সরকার দলীয় প্রার্থী নারীদের উন্নয়নমূলক সরকারি কার্যক্রমও তুলে ধরছেন।
শহর থেকে গ্রামগঞ্জে প্রচার প্রচারণা এখন তুঙ্গে। তবে ৫ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়ার মতো।
সদর উপজেলার নারগুন কহরপাড়ার মোতালেব হোসেন বলেন, উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে সৎ, যোগ্য প্রার্থীকেই দেখে ভোট প্রদান করবেন তারা। সেই সাথে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করণের ক্ষেত্রে যে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে তাকেই ভোট প্রদান করবে ভোটাররা।
পৌরশহরের কলেজপাড়ার তরুণ ভোটার আহসান হাবীব বলেন, যিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন, বেকার সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন তাদের পক্ষেই সমর্থন দেওয়া হবে।
তার মতোই কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, নারীদের ক্ষমতায়নে যে প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দিবেন এবং তা বাস্তবায়ন করবেন তাকেই বেছে নেওয়া হবে।
স্থানীয় আখচাষী নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস আলী মনে করেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মির্জা ফয়সাল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে। এই আসনে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হিন্দু ও আদিবাসী ভোটার রয়েছে, যা ভোটের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন তদবির রক্ষা এবং রাষ্ট্রপতির সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে সচেতন ভোটাররা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষেই রায় দিতে পারেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মানুষগুলো যে স্বপ্নগুলো দেখে উন্নয়নের ব্যাপারে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি কাজ করে যাবো। বেকারত্ব সমস্যা দূর করতে আমি নজর দেবো, এর পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করবো। সেই সাথে শান্তির সমাজ গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য।
জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ব্যাটার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে দাঁড়িপাল্লাকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না। আমি বিশ্বাস করি নীরব ব্যালট বিল্পবের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হবে। বিজয়ী হলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে অনবদ্য ভূমিকা রাখবো। জনগণের উন্নয়নে যা বরাদ্দ আসবে তা জনগণকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি এবং নির্বাচনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেনি। প্রার্থীগণ এই পরিবেশ বজায় রাখবেন বলে আশা করছি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশা করি ২৯ অক্টোবর সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনে এখানে অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই আসটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৭ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৭।
সময়ের আলো/আতা