ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ নেতাদের আটক করেছে পুলিশ। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছিলেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড টপকে জনপ্রিয় প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। কর্তৃপক্ষ এর আগে স্থানটিকে আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থলের মর্যাদা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আন্দোলনের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্কা শিন্দে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে আরও প্রায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবককে আটক করা হয়।
কেন বিক্ষোভ হচ্ছে?
চলতি মাসে ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলো প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করেছে। তাদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, তালিকা থেকে ভুলভাবে বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া
সপ্তাহান্তে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করার পর মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নির্বিচারে গ্রেফতার ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, ভোটাধিকার ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তরুণদের উদ্বেগের সমাধানে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকার।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য
আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, প্রতিবাদস্থলের মর্যাদা বাতিল করলেই প্রতিরোধ থামানো যাবে না।
তার বক্তব্য, যন্তর মন্তর শুধু একটি স্থান নয়, বরং প্রতিবাদের চেতনার প্রতীক।
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তর আর আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থল নয় এবং বিক্ষোভের জন্য তিনটি নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ