নাটোরের বড়াইগ্রামের জালশুকা বাজারে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক বিধবা নারীর ৪টি দোকানঘরসহ জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বনপাড়ায় ওই জমির মালিক বিধবা নারী নাজমা খাতুন সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানিয়ে সম্পত্তি দ্রুত জবরদখল মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমা খাতুন জানান, উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের জালশুকা বাজারে স্বামী মৃত মহসিন আলী প্রামাণিকের রেখে যাওয়া ৩৩ শতক জমি রয়েছে। সেখানে সড়কের পশ্চিম পাশে ৫টি দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার সকালে আকস্মিক ওই ৫টি দোকানঘরের মধ্যে ৪টিতে তালা মারে জালশুকা গ্রামের মাহবুর রহমান মবু ও আফজাল হোসেন সাবুর নেতৃত্বে মোখলেসুর রহমানসহ সঙ্গীয়রা। এসময় আশেপাশের দোকানীদের জানিয়ে যায় এখন থেকে এই দোকানঘরগুলোর মালিক মবু ও সাবু। মাসিক ভাড়া এখন থেকে তাদেরকেই দিতে হবে।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে আমি (নাজমা খাতুন) দোকানঘরের কাছে গেলে মবু ও সাবু আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এই দোকানঘরগুলোর কাছে না আসার জন্য হুমকি দেয়। পাশাপাশি আমার ছেলে বা আত্মীয়-স্বজন কেউ এলে তাদেরকে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। উল্লেখ্য, জালশুকা গ্রামের মৃত আফসার আলীর দুই ছেলে মাহবুর রহমান মবু ও আফজাল হোসেন সাবু পাশের ফুলবতী গ্রামের ছমির হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি। যার ফলে তাদেরকে স্থানীয় সকলেই ভয় পায়। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই দখলকৃত জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নিলেই তারা বাধা দিচ্ছে ও হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী বিধবা নাজমা খাতুন তার জমি উদ্ধারের জন্য সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসন সহ স্থানীয় সচেতন মহলের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ওই নারীর সাথে তার ছেলে শামীম প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মবু ও সাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি নন বলে জানান।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/এনএন