ইসলাম পানাহারের ক্ষেত্রে দিয়েছে সুন্দর নির্দেশনা। আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পানাহারের সুন্নত আমাদের জন্য শুধু ইবাদতই না, এতে রয়েছে পার্থিব অনেক উপকারও। নিম্নে কিছু সুন্নত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
হাত ধোয়া : খাওয়ার আগে উত্তমরূপে হাত ধোয়া সুন্নত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) পানাহারের আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করতেন।’ (মুসনাদে আহমদ)
শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা : খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে ডান হাত দিয়ে আরম্ভ করা সুন্নত। শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্রই ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহ’ বলা। হজরত ওমর ইবনে আবু সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) খাদ্যগ্রহণের সময় আমাকে বললেন শুরুতে বিসমিল্লাহ বলো, ডান হাত দিয়ে খাবার খাও এবং তোমার নিকটবর্তী প্রান্ত থেকে খাদ্যগ্রহণ করো।’ (বুখারি : ৫৩৭৬)
দস্তরখানা বিছিয়ে খাওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবারের সময় দস্তরখানা বিছিয়ে খেতেন। তিনি এটাকে খুব গুরুত্ব দিতেন। এটা অনেক বড় সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) পায়াবিশিষ্ট বড় পাত্রে খাবার খেতেন না। হজরত কাতাদা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তা হলে কীসের ওপর খাবার খেতেন? তিনি বললেন, চামড়ার দস্তরখানার ওপর।’ (বুখারি : ৫৩৮৬)
খাবারের দোষ না ধরা : খাদ্য মহান আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত। এর দোষত্রুটি বর্ণনা করা শোভনীয় নয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী করিম (সা.) কখনো কোনো খাদ্যের দোষ বর্ণনা করেননি। ভালো লাগলে তিনি তা আহার করতেন এবং অপছন্দ করলে তা রেখে দিতেন।’ (বুখারি : ৪৫০৯)
খাবারে ফুঁ না দেওয়া : খাবার ও পানপাত্রে ফুঁ না দেওয়া। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবারে পানাহারে এমনকি পাত্রেও ফুঁ দিতেন না।’ (ইবনে মাজাহ : ৩২৮৮)
পরিমিত খাওয়া : পরিমিত খাদ্যগ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর। বেশি খেলে শরীরে মেদ জমে, রক্তে চর্বি বাড়ে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি রোগ হয়। রাসুল (সা.) রোগ-শোক প্রতিরোধে কম খাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নিশ্চয় অধিক খাবার দুর্ভাগ্য বা অমঙ্গল বয়ে আনে’ (মেশকাত : ৪২৩৮)। রাসুলে আকরাম (সা.) বলেছেন, ‘পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য গ্রহণের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানি পানের জন্য আর এক-তৃতীয়াংশ নিশ্বাস গ্রহণের জন্য।’ (তিরমিজি : ২৩৮০)
খাদ্য তুলে খাওয়া : পড়ে যাওয়া খাদ্য উঠিয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কারও এক টুকরা খাদ্য পড়ে যায়, তখন সে যেন তার ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে।’ (মুসলিম : ২০৩৪)
বরতন চেটে খাওয়া : খাওয়ার পর আঙুল ও খাবারের বরতন (পাত্র) চেটে খাওয়া সুন্নত। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী করিম (সা.) হাতের আঙুল ও খাবারের পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ করেছেন এবং তিনি বলেছেন নিশ্চয় তোমরা জানো না যে, খাদ্যের কোন অংশের মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম : ২০৩৩)
শুকরিয়া আদায় করা : আহার শেষ হলে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবারের শেষে এই দোয়া পড়তেন— ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়াসাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন, অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের খাওয়ালেন, পান করালেন এবং মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।’ (আবু দাউদ : ৩৮৫০)
সময়ের আলো/মহু