জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ শেষে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফেরার পথে খোয়া যাওয়া ক্রিকেটারদের আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। লাগেজে থাকা পাসপোর্ট, আইফোনসহ বেশির ভাগ মালামাল উদ্ধার হলেও এক ক্রিকেটারের নগদ তিন লাখ টাকা এখনো পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজশাহীর পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ লাগেজ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। বুধবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে লাগেজগুলো উদ্ধার করে রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পুলিশ সুপার জানান, আটক পাঁচজন পেশাদার চোরচক্রের সদস্য। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া ও চারঘাট উপজেলায়। চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের দরজা খুলে মালামাল চুরির কৌশল তাদের জানা রয়েছে। এই কৌশলেই ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী সুমন জানান, লাগেজ উদ্ধারের খবর পেয়ে তাঁরা জেলা ডিবি কার্যালয়ে যান। সেখানে আটক পাঁচজনকে দেখেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ ক্রিকেটারদের লাগেজে থাকা পোশাক পরেছিলেন। আবার কেউ লাগেজ থেকে পাওয়া দামি সুগন্ধি ব্যবহার করছিলেন।
সুমন আরও জানান, লাগেজের প্রায় সব মালামাল উদ্ধার হয়েছে। তবে এক ক্রিকেটারের ব্যাগে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়নি। ওই অর্থ উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
এর আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বিমানে রাজশাহী ফেরেন বিভাগের ক্রিকেটারেরা। তাদের ৫৪টি লাগেজ নিয়ে আগের রাতেই ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভাড়া করা একটি কাভার্ড ভ্যান।
বুধবার সকালে রাজশাহীর একটি হোটেলে মালামাল নামানোর সময় আটটি লাগেজ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। থানায় করা অভিযোগে ক্রিকেটার এস এম মেহেরব হাসান জানান, তাঁর লাগেজে পাসপোর্ট, আইফোন ১৫ প্রো-ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার ও নগদ তিন লাখ টাকা ছিল। এ ছাড়া অন্য ক্রিকেটারদের পোশাক, জুতা, মূল্যবান ব্যক্তিগত সামগ্রী ও দলের ক্রীড়াসামগ্রীও খোয়া যায়।
এ ঘটনায় মেহেরব রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ লাগেজ উদ্ধারে কাজ শুরু করে।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ। লাগেজ উদ্ধার হলেও খোয়া যাওয়া তিন লাখ টাকা উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে