ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারির ঘটনায় বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছেন অভিনেতা ইমরান খান। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করবেন অভিনেতা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ভারতের বিদেশি নাগরিকত্ব কার্ডধারীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ নেই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বিনোদনবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে আটক হন ইমরান খান। ওই কর্মসূচিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছিল।
যে কারণে বিতর্ক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পাসপোর্টধারী ইমরান খান গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত ওই প্রতিবাদে অংশ নেন। এ সময় তাকে আটক করে মুম্বাই পুলিশ।
ভারতীয় নাগরিক না হয়েও রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের ২৯ ও ৭ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের গাড়ির ভেতরে বসে থাকার একটি ছবি প্রকাশ করেন অভিনেতা। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, মনে হচ্ছে, আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ইমরান বলেন, মুম্বাইয়ের একজন নাগরিক হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি বলেও জানান। এ ছাড়া মানুষের চলাচলের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ইমরানের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিজেপি কর্মী অভিজিৎ দীপকেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, একজন মার্কিন নাগরিক মেরি মিলবেন বিজেপির পক্ষে কথা বলতে পারেন। কিন্তু ওসিআই কার্ডধারী ইমরান বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেন না।
অন্যদিকে, এর আগে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা কিরিট সোমাইয়া ইমরান খানকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, মুম্বাইয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইমরান বিদেশি নাগরিকত্ব কার্ডের শর্ত এবং ভিসার বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
সোমাইয়া দাবি করেন, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ইমরানের দেওয়া বক্তব্য এবং তার আগের মন্তব্যের প্রমাণ তিনি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। অভিনেতা তার ওসিআই মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সোমাইয়া ইমরানের কর্মকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক উগ্রতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, ইমরান একজন মার্কিন নাগরিক এবং ভারতের বিদেশি নাগরিকত্ব কার্ডধারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন।
তবে ইমরান খানের আইনজীবীর বক্তব্য, ওসিআই কার্ডধারীদের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ নয়। এ বিষয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নোটিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চান অভিনেতা।
উল্লেখ্য, ওসিআই বা ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ হলো ভারতীয় বংশোদ্ভূত নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা। এটি ভারতের পূর্ণ নাগরিকত্ব নয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ