শিবচরে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

দিনের তুলনায় রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে মাদারীপুরের শিবচরে। দিনের বেলায় কলকারখানা, অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও রাতে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ

2026-10-15T16:56:10+00:00
2026-10-15T16:56:43+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
শিবচরে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম  আপডেট: ১৫.১০.২০২৬ ৪:৫৬ পিএম
শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। ছবি : সংগৃহীত
দিনের তুলনায় রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে মাদারীপুরের শিবচরে। দিনের বেলায় কলকারখানা, অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও রাতে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ বন্ধ থাকে। এরপরও রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দিন-রাত লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিঘ্নিত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক ঘুম ও বিশ্রাম।

শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর বুধবার দিনে উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ মেগাওয়াটে। এ সময় সরবরাহ পাওয়া যায় ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। ফলে দিনে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। রাতে সরবরাহের পরিমাণ অনুযায়ী ঘাটতি দাঁড়ায় ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াটে।

এর আগে শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়া আরেক হিসাবেও রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকার চিত্র পাওয়া যায়। ওই হিসাবে দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৫ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১০ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ মেগাওয়াটে, সরবরাহ ছিল ১৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দিনে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল ১৫ মেগাওয়াট, রাতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ মেগাওয়াটে।

শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল হক বলেন, রাতে শিবচরে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার অন্যতম কারণ।

দিনের বিভিন্ন সময় চলাচল শেষে চালকেরা সাধারণত রাতে যানবাহনগুলো চার্জে বসান। ফলে একই সময়ে অনেক ব্যাটারি চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর বাসাবাড়িতে বাতি, পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারও বাড়ে। সব মিলিয়ে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়।

বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে রাতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিবচর পৌরসভার বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, দিনে তো লোডশেডিং চলছেই, পাশাপাশি রাতে এর তীব্রতা বাড়ে। এতে ঘুমাতে অনেক সমস্যা হয়। বাড়িতে আমার বৃদ্ধ বাবা গরমে প্রায় সারা রাত হাঁসফাঁস করেন। দিনে বিদ্যুৎ না থাকলে বাইরে গিয়ে কোথাও একটু বসা যায়, কিন্তু রাতে সেই সুযোগও থাকে না।


রাতের লোডশেডিংয়ে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদেরও। এসএসসি পরীক্ষার্থী আমিশা শরিফ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কম করে হলেও দুই-তিনবার লোডশেডিং হয়। এতে পড়াশোনায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে। দিনে লোডশেডিং হলেও আলোতে পড়া যায়, কিন্তু রাতে লোডশেডিং হলে বই রেখে উঠে যেতে হয়।

দিনের তুলনায় রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতি শিবচরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। রাতের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহের ঘাটতি কমানো গেলে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   শিবচর  রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে  মাদারীপুর  লোডশেডিং  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: