সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি, সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাত করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় ওই নারী মোছা. হাছিনা বেগম প্রকাশ কালনীকে (৬৪) কারাগারে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামের আদালত। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতির এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার যৌথ অভিযানে শিবপুর এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাস্টডি ওয়ারেন্টের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠান।
স্বামী মো. দেলোয়ার হোসেন ও অজ্ঞাতনামা সাইবার অপরাধীদের সহায়তায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার মূল সরকারি পোর্টালের হুবহু নকল (ক্লোন) ওয়েবসাইট তৈরি করে ভুয়া কিউআর (কিউআর) কোডযুক্ত ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়।
ওই জাল সনদ ব্যবহার করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে প্রায় ৫৭ দশমিক ৪৫ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একক নামজারি খতিয়ান করিয়ে জ্যেষ্ঠ বোন হাছিনা বানুকে তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের করা মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড পৌরসভার দক্ষিণ-পশ্চিম শিবপুর এলাকার মৃত খায়ের উল্লাহর দুই কন্যার মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনের কথা থাকলেও, কনিষ্ঠ কন্যা হাছিনা বেগম সম্পূর্ণ সম্পত্তি এককভাবে হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এর আদলে একটি ক্লোন ওয়েবসাইট তৈরি করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এবং মডেল থানার ওসির স্ক্যান করা সিল-স্বাক্ষর জাল করা হয়।
পরবর্তীতে পৌরসভার নিজস্ব তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্মারক নং সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৮-এর মাধ্যমে সনদটি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলী আজম আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেন।
সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাহমুদুল হাসান এবং দণ্ডবিধি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কামরুজ্জামানের যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি গ্রেফতার হন। তবে মামলার অন্য এজাহারনামীয় আসামি ও আসামির স্বামী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (৬৬) এবং নকল ওয়েবসাইট তৈরিতে জড়িত মূল সাইবার চক্রের সদস্যরা এখনো পলাতক রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা (অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. সরওয়ার হোসাইন লাভলু) এই ডিজিটাল জালিয়াতিকে রাষ্ট্রীয় সেবার নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত পর্দার আড়ালের সাইবার চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই