ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রাবিরতি শুরু করেছে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর ট্রেন মহানগর প্রভাতী (৭০৪)। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন কসবাবাসী। নতুন এ যাত্রাবিরতির ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মহানগর প্রভাতী ট্রেনে কসবা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে এর যাত্রাবিরতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ মুশফিকুর রহমান।
এ উপলক্ষে কসবা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় আয়োজিত জনসভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রেলওয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। স্টেশন জুড়ে উৎসবের আমেজ।
মহানগর প্রভাতীর যাত্রাবিরতি উপলক্ষে সকাল থেকেই কসবা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ফুল হাতে দলীয় নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্টেশনে জড়ো হন। নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো স্টেশন এলাকা পরিণত হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মিলনমেলায়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সেবা চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কসবা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানকার অনেক মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে নিয়মিত ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করেন। মহানগর প্রভাতীর যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় তাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কসবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াছের সভাপতিত্বে এবং কসবা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাসুদ, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নাজমুল হুদা খন্দকার, জেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন হাজারী, কসবা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইকলিল আজম, কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আলী আশরাফ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন, সাবেক সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও বেলায়েত হোসেন হেলাল, কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদুল হক ভূঁইয়া দীপু এবং সদস্যসচিব মো. জিয়াউল হুদা শিপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, কসবা রেলওয়ে স্টেশনে আগে থেকেই আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নোয়াখালীগামী যাত্রীরা চলাচল করেন।
এর সঙ্গে নতুন করে মহানগর প্রভাতীর যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় কসবাবাসীর রেল যোগাযোগের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হলো। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কসবা ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে।
সময়ের আলো/জোই