অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

অনলাইন বিজ্ঞাপনের বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও নজরদারি এবং তাঁদের ডিভাইসে স্পাইওয়্যার প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগ

2026-10-15T20:54:32+00:00
2026-10-15T20:54:32+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ইসরায়েলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৪ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
অনলাইন বিজ্ঞাপনের বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও নজরদারি এবং তাঁদের ডিভাইসে স্পাইওয়্যার প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থা ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে। কানাডাভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং নিউইয়র্কভিত্তিক বিজ্ঞাপন নিরাপত্তা সংস্থা কনফিয়েন্টের পৃথক দুই গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। গবেষণা অনুযায়ী, ডিসকভার-টেক গুগল, কমকাস্ট ও রাশিয়ার ইয়ানডেক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা ক্যান্ডিরু ও অন্যান্য নজরদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সহায়তা করেছে। ক্যান্ডিরুকে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ কালো তালিকাভুক্ত করে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, সাধারণ পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ব্যবহৃত অনলাইন বিজ্ঞাপনব্যবস্থা কীভাবে ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা, তাঁদের কার্যকলাপ অনুসরণ করা এবং নির্দিষ্ট ডিভাইসে নজরদারির সফটওয়্যার পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

সিটিজেন ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক উলফি ক্রিস্টল রয়টার্সকে বলেন, বর্তমান অনলাইন বিজ্ঞাপনব্যবস্থা একটি কাঠামোগত নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে। রাষ্ট্র, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ—সবার জন্যই এটি বিপজ্জনক।

১ লাখ ২০ হাজার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন

সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপনে প্রায়ই ফোন ও ইয়ারবাডের মতো সাধারণ পণ্যের প্রচার করা হতো। বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব বিজ্ঞাপন ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট ও ৭৫ হাজার অ্যাপে পৌঁছাত।

গবেষকদের দাবি, এসব বিজ্ঞাপন দেখানো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা কিংবা সংশ্লিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও অনুসরণ করতে পারত ডিসকভার-টেক। কিছু ক্ষেত্রে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর সংগ্রহের চেষ্টাও করা হতো। নজরদারির কিছু কার্যক্রমের জন্য বিজ্ঞাপনটি ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত বা লোড হওয়াই যথেষ্ট ছিল বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।

সিটিজেন ল্যাব ও কনফিয়েন্টের গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কিছু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে ক্যান্ডিরুর তৈরি স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা ছিল। তবে কনফিয়েন্টের ভাষ্য, ক্যান্ডিরুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলো ডিসকভার-টেকের মোট বিজ্ঞাপনের তুলনায় খুবই সামান্য অংশ ছিল।

কনফিয়েন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেরোম ড্যাঙ্গু বলেন, ডিসকভার-টেক প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে অন্তত এক কোটি বিজ্ঞাপন সরবরাহ করত। ‘কুকি ম্যাচিং’ নামে পরিচিত তথ্য মেলানোর কৌশল ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের বাইরের ব্যবহারকারীদেরও অনুসরণ করতে পারত।

ড্যাঙ্গুর ধারণা, এভাবে কোটি কোটি মানুষ ডিসকভার-টেকের নজরদারির আওতায় এসে থাকতে পারেন।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিসকভার-টেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পায়নি রয়টার্স। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের যোগাযোগ ফরম, প্রধান নির্বাহী দেকেল বোনির ই-মেইল ও লিংকডইনে পাঠানো বার্তারও জবাব পাওয়া যায়নি। ক্যান্ডিরুর মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

আল জাজিরার ৪৫টি ডিভাইসে অনুপ্রবেশের অভিযোগ

সিটিজেন ল্যাবের দাবি, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ৪৫টি উইন্ডোজ ডিভাইসে অনুপ্রবেশের ঘটনায় ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরবরাহ করা ক্যান্ডিরুর শক্তিশালী স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল। আল জাজিরার নেটওয়ার্কের লগ বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো বার্তার জবাব দেয়নি আল জাজিরা।

কনফিয়েন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেরোম ড্যাঙ্গুর ভাষ্য অনুযায়ী, পেন্টাগন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীদের কাছেও এসব ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন পৌঁছেছিল। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কিছু এলাকায় ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও তিনি জানান।

ড্যাঙ্গু বলেন, ফিলিস্তিনের যেকোনো ওয়েবসাইটে গেলেই ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন দেখা যেত। তাঁর মতে, এ ধরনের বিস্তৃত উপস্থিতি একটি অঞ্চলের ডিজিটাল কার্যক্রমের ওপর বিস্তারিত নজরদারির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সিটিজেন ল্যাব জানিয়েছে, জাতিসংঘ, ন্যাটো, ইউরোপীয় কমিশন এবং এক ডজনের বেশি দেশের সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছেও এসব বিজ্ঞাপন পৌঁছেছিল। এ ছাড়া এনভিডিয়া, স্যানডিস্ক, ব্রডকম ও মাইক্রনের মতো চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক এবং মেক্সিকো, ইসরায়েল ও ইউরোপের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ব্যবহারকারীদেরও এসব বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।


ডিসকভার-টেকের ব্যবহারকারীদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কথাও জানিয়েছে সিটিজেন ল্যাব। সংস্থাটির দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ভুলবশত তাদের অথেনটিকেশন লগ ইন্টারনেটে উন্মুক্ত রাখায় সেখান থেকে তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়। ওই লগে ইসরায়েল, ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের আইপি ঠিকানা থেকে প্রবেশের তথ্য ছিল।

বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে বাদ পড়ছে ডিসকভার-টেক

গবেষণার পর ডিসকভার-টেককে অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, সিটিজেন ল্যাব ও কনফিয়েন্টের তদন্তে তারা সহযোগিতা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন নীতিমালা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘনের কারণে ডিসকভার-টেককে নিজেদের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করেছে গুগল।

ডিজিটাল বিপণন ও বিজ্ঞাপন খাতের ইউরোপীয় সংগঠন আইএবি ইউরোপ জানিয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিরীক্ষায় ধরা পড়ার পর গত সপ্তাহে ডিসকভার-টেককে বিশ্বব্যাপী অনুমোদিত বিক্রেতাদের তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কমকাস্টের বিজ্ঞাপনপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিজওয়াক্সও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের পর ডিসকভার-টেককে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি ইয়ানডেক্স।

বিজ্ঞাপনভিত্তিক নজরদারিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পেন্টাগন জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে বিজ্ঞাপনপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও তথ্য-ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের ঘটনা সম্পর্কে তারা প্রতিবেদন পেয়েছে। এরপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা কয়েক ধরনের ডিভাইসে বিজ্ঞাপন-ট্র্যাকিং বন্ধ করেছে।

সূত্র : রয়টার্স, সিটিজেন ল্যাব ও কনফিয়েন্ট 

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   অনলাইন বিজ্ঞাপন  বিশ্বজুড়ে  গোয়েন্দা নজরদারি  ইসরায়েল 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: