হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, সরকারি ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতি, শিক্ষার নিম্নমান, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিতর্কিত প্রকল্প বাতিলের দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে। তবে তীব্র বিক্ষোভের মধ্যেও পদত্যাগ করতে রাজি নন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তিরানার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনের জানালা ভাঙচুর করেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। আন্দোলনের কারণে দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশনও বাতিল করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সংকট এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে জ্যারেড কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। এর প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তবে তাদের অভিযোগ, সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এর আগে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও অভিযোগ করেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে কুশনারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান প্রধানমন্ত্রীর
রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে পদত্যাগের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এদি রামা। তিনি বলেন, জনগণের কথা শোনা, তাদের সমস্যার সমাধান করা এবং আলবেনিয়াকে এগিয়ে নেওয়াই তার দায়িত্ব। এর ব্যতিক্রম করা হলে তা হবে সেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনের আলোচনা সফলভাবে শেষ করার লক্ষ্যে তাঁকে শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছেন।
সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন রামা। শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য তার দরজা খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা, জনসম্পদ ধ্বংস এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে দেশি-বিদেশি কিছু শক্তি সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তৃতীয় দিনে গড়াল বিক্ষোভ, বাড়ছে উদ্বেগ
আলবেনিয়ায় চলমান বিক্ষোভ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। তিরানার বিভিন্ন সড়কে পুড়ে যাওয়া আবর্জনার পাত্র, ভাঙা বাস স্টপ ও ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাফিক সিগন্যাল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবারও স্ক্যান্ডারবেগ স্কয়ারে পর্যটকদের উপস্থিতির মধ্যে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এবং লাঠিপেটা করে।
এ পরিস্থিতিতে আলবেনিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মিশন এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গঠনমূলক সংলাপই এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।
গত বছর চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী এদি রামার জন্য শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ