চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় এলাকায় চুরির অভিযোগে রাতভর দফায় দফায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক তরুণকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পান সিগারেটের দোকানে চুরির সময় ধরা পড়ে ইমন (২১) নামে এক তরুণ। পরে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। বুধবার এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, হত্যায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, গ্রেফতার আসামি মিজানুর রহমান দোকানে প্রবেশের পর ইমনকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে কল্পলোক আবাসিক এলাকায় রাতের দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ড ও দারোয়ানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারা ইমনকে আটকে রেখে রাতভর মারধর করেন। আসামিরা লাঠি দিয়ে ইমনকে মারতে মারতে কল্পলোক মডেল মসজিদের দক্ষিণে সাজেদা ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত খালি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যা করা হয় ইমনকে। পরে লাশ গুম করতে বুধবার ভোরে কল্পলোক আবাসিকের ২ নম্বর রোডের মুখে ৫ নম্বর ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চমেকের মর্গে পাঠিয়েছে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন আব্দুর রহমান জিসান (২১), ইয়াছিন আরাফাত (২৩), মো. হাসান (৩৩) ও মো. মিজানুর রহমান (২৭)। চারজনই এজারহারভুক্ত আসামি।
পিটিয়ে হত্যা করা ইমন বাকলিয়ার কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তার ফুফু রেহানা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারের তথ্যে দেখা যায়, পান সিগারেটের দোকানের মালিক গ্রেফতার মিজানুর রহমানের ভাই নিজাম উদ্দিন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের মুখে এই পান-সিগারেটের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চুরিতে জড়িত অভিযোগ এনে ইমনকে আটক করা হয়। দোকানের ভেতরে ইমনকে আটক করার পর মিজানুর রহমান এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী,দারোয়ানসহ ও অন্য আসামিদের বিষয়টি জানান। পরে আসামিরা লাঠিসোঁটা দিয়ে ইমনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে কল্পলোক মডেল মসজিদের দক্ষিণে সাজেদা ফাউন্ডেশনের পাশে একটি খালি মাঠে নিয়ে আবার বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে ইমন গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে ওই আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের মুখে একটি সেতুর নিচে ইমনকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরদিন বুধবার দুপুরে রেহানা বেগম ও তার ছেলে মো. সবুজ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইমনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন