২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর, লুসাইল স্টেডিয়ামের আকাশ-বাতাস তখন নীল-সাদা রঙে রাঙানো। ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে আর্জেন্টিনা যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ঠিক তখনই গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে আসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। লিওনেল মেসির হাতে উঁচিয়ে ধরা সেই ট্রফিটিতে চুমু খাওয়ার দৃশ্য কিংবা সতীর্থদের কাঁধে চড়ে উল্লাস করার ছবিগুলো আজও আর্জেন্টাইনভক্তদের হৃদয়ে টাটকা।
তবে কোটি ভক্তের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে— আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের হাতে সেদিন ট্রফিটি তো আসল ছিল না, ফিফার আসল ট্রফিটি মাঠে কিছুক্ষণের বেশি রাখা হয় না। তাহলে মাঠে ওই ৪৫ মিনিট ধরে মেসিদের হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো সেই ট্রফিটি কোনটি ছিল?
সেদিন গ্যালারি থেকে মাঠে নামানো হয়েছিল ট্রফিটির একটি বিশেষ রেপ্লিকা। আর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা সেই ঐতিহাসিক রেপ্লিকা ট্রফিটিই এবার উঠতে যাচ্ছে নিলামে। আগামী ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলে ‘রিচমন্ড অকশনস’-এর উদ্বোধনী ক্রীড়া স্মারক নিলামে এটিকে বিক্রির জন্য তোলা হবে। ইতিপূর্বে ট্রফিটি বুয়েনস আইরেসের জাতীয় ঐতিহাসিক জাদুঘরেও প্রদর্শিত হয়েছিল।
বিশ্বকাপ জয়ের পর এই রেপ্লিকা ট্রফিটি হাতে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন মেসি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত সেই পোস্টটিতে ৭ কোটি ৪০ লাখের বেশি লাইক পড়েছিল, যা একসময় প্ল্যাটফর্মটির ইতিহাসে সর্বাধিক লাইকপ্রাপ্ত পোস্টের রেকর্ড গড়েছিল।
উদযাপন শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বজয়ী দলের আটজন তারকা এই ট্রফিতে স্বাক্ষর করেন। নিলামের নথিপত্র অনুযায়ী, এতে স্বাক্ষর করেছেন লাওতারো মার্তিনেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, গুইদো রদ্রিগেজ এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোল করা আনহেল দি মারিয়ার মতো তারকারা।
রিচমন্ড অকশনসের অফিশিয়াল নথিপত্র বা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ট্রফিটির নির্দিষ্ট কোনো প্রাক্কলন বা আনুমানিক বাজারমূল্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর আগে কাতার বিশ্বকাপে মেসির পরা ছয়টি জার্সির একটি সেট সথবাইয়ের নিলামে প্রায় ৭.৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। ফলে ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন এই স্মারকটির দামও যে কোটিপতি সংগ্রাহকদের লড়াইয়ে আকাশচুম্বী হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। ৭ নভেম্বরের মূল নিলামেই নির্ধারিত হবে ইতিহাসের এই অমূল্য টুকরোটির চূড়ান্ত ঠিকানা কার ড্রয়িংরুমে ঠাঁই পাবে।
সময়ের আলো/আতা