গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জোরকদমে চলছে আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা রং করা, প্যান্ডেল তৈরি, দৃষ্টি নন্দন ফটক বা তোরণ নির্মাণের কাজ। সেই সঙ্গে চলছে সীমিত পরিসরে আলোক সজ্জার প্রস্তুতিও। শিল্পীর হাতের নিখুঁত তুলির আঁচড়ে যেন একটু একটু করে চোখ মেলে তাকাচ্ছে প্রতিমাগুলো। মাটির প্রতিমা যেন হয়ে উঠছে জীবন্তু দেব-দেবীর প্রতিচ্ছবি।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এ বছর ১৩৪টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকায় ২১টি, শিবপুর ইউনিয়নে ৪টি, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নে ১১টি, রাখাল বুরুজ ইউনিয়নে ৬টি, গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নে ৩টি, কামারদহ ইউনিয়নে ৪টি, কোচাশহর ইউনিয়নে ৫টি, হরিরামপুর ইউনিয়নে ১৭টি, দরবস্ত ইউনিয়নে ১২টি, তালুক কানুপুর ইউনিয়নে ১০টি, রাজাহার ইউনিয়নে ৪টি, সাপমারা ইউনিয়নে ৮টি, নাকাই ইউনিয়নে ৬টি, কামদিয়া ইউনিয়নে ৮টি, কাটাবাড়ি ইউনিয়নে ৪টি, শাখাহার ইউনিয়নে ৬টি, ফুলবাড়ি ইউনিয়নে ৪টি এবং শালমারা ইউনিয়নে ১টি মণ্ডপে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যেই সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। গত ১০ অক্টোবর উপজেলার সব পূজা মণ্ডপের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা ও গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কেউ যাতে কোনো অপপ্রচার চালিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার দাস রন্টু জানান, দেশের বিদ্যুৎ সংকটের কথা মাথায় রেখে সীমিত পরিসরে আলোক সজ্জিত করার জন্য মন্দিও কমিটির নেতৃবৃন্দকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক দীপক কর জানান, প্রাচীনকাল থেকেই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্ট্রান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষে বসবাস রয়েছে। সবাই যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন। এ উপজেলায় তেমন কোনো ধর্মীয় সহিংসতার নজির নেই। আশা করছি প্রতিবারের ন্যায় এবারের দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
সময়ের আলো/জোই