বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)। মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব।
মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণ, অর্থাৎ বোধন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার সপ্তমী তিথি শনিবার ও রোববার (১৭ ও ১৮ অক্টোবর) জুড়ে রয়েছে। মহাসপ্তমীর অন্যতম আনুষ্ঠানিকতা নবপত্রিকা স্নান। এতে নয়টি উদ্ভিদকে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী। এদিনের বিশেষ আকর্ষণ সন্ধিপূজা, যা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমীতে দেবীর পূজা ও ভোগ নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। পরদিন বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন ভক্তরা।
পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে এ বছর নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছে। মহানবমী ও বিজয়া দশমীর ছুটির সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও ছুটি থাকছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস খোলা থাকবে।
এদিকে দুর্গোৎসব ঘিরে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রতিমা স্থাপন, প্যান্ডেল নির্মাণ, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন আয়োজকেরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
দুর্গাপূজার পৌরাণিক কাহিনিতে দেবী দুর্গার অসুরবধের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভশক্তির বিজয়ের বার্তা তুলে ধরা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ত্রেতা যুগে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভের জন্য রাজা রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। সেই অকালবোধনের ধারাবাহিকতায় শরৎকালে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের রীতি প্রচলিত হয়েছে বলে ধর্মীয় কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে।
দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকেরাও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
সময়ের আলো/জেডি