ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইউরোপে বিক্ষোভের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ফ্রান্সে। গত কয়েক বছরে ব্যয়বহুল সরকারি বিধিনিষেধের প্রতিবাদে কৃষকদের স্থানীয় মেয়র কার্যালয়ে গোবর ছুড়তে দেখা

2026-10-16T09:16:49+00:00
2026-10-16T09:16:49+00:00
 
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৬ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপে বিক্ষোভের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ফ্রান্সে। গত কয়েক বছরে ব্যয়বহুল সরকারি বিধিনিষেধের প্রতিবাদে কৃষকদের স্থানীয় মেয়র কার্যালয়ে গোবর ছুড়তে দেখা গেছে। আবার শহরের সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মুখোশধারী তরুণদের দাঙ্গা পুলিশের দিকে ঘরে তৈরি গ্রেনেড ছুড়তেও দেখা গেছে।

গত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটির হাজারো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছে। নিজেদের ক্ষোভ ও দাবিদাওয়া নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছে। শনিবার ফ্রান্সজুড়ে আরও শত শত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়ন ও কথিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও যোগ দিতে পারেন।

আগামী বসন্তে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতের সংকটের মতো বিষয়গুলোই তাঁদের আন্দোলনের মূল কারণ।

২০১৮ সাল থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন করেছিল ‘জিলেট জন’ বা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা। ফ্রান্সের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবাদ আন্দোলনগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল এটি। আন্দোলনটির পরিচিত মুখ জেরোম রদ্রিগেজ ইনস্টাগ্রামে শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, যারা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে চান, প্রতিটি পয়সার হিসাব কষতে চান না এবং খাবার কেনা ও গাড়ি চালানোর খরচের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হতে চান না—এই বিক্ষোভ তাঁদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরবে। তাঁর ভাষায়, ‘ক্ষোভের কোনো রাজনৈতিক দল নেই। খালি ফ্রিজেরও কোনো রাজনৈতিক দল নেই।’

তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্সে আসলে কী ঘটছে? সামাজিক অসন্তোষের পাশাপাশি দেশটিতে সরকারি ঋণের ব্যয় বেড়েছে, সংসদ গভীরভাবে বিভক্ত এবং গত পাঁচ বছরে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই সরকারি ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ফ্রান্স কি সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে? দেশটির অর্থনৈতিক অস্থিরতা ইউরোজোনের মুদ্রা ইউরোর ওপরই বা কী প্রভাব ফেলতে পারে?

অর্থনীতিবিদ অ্যান-লর দেলাত্তে মনে করেন, ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে ২০১২ সালের গ্রিসের ঋণসংকট কিংবা ২০০১ সালের আর্জেন্টিনার সংকটের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না। প্যারিস দফিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই গবেষক বলেন, ২০২৪ সালের আগাম নির্বাচনের পর সংসদ তিনটি বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ায় আর্থিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ফ্রান্স বড় অর্থনীতি এবং প্রয়োজন হলে কর বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতা দেশটির রয়েছে—এ বিষয়টিও বাজার বিবেচনায় রাখছে।

দেলাত্তের মতে, ফ্রান্সের পরিস্থিতি ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের সময়কার সংকটের সঙ্গে কিছুটা তুলনীয়। সে সময় সরকারের ‘মিনি বাজেট’ ঘোষণার পর পাউন্ডের দর পড়ে যায়, সরকারি বন্ডের সুদ বেড়ে যায় এবং বাড়ির ঋণের কিস্তিও বেড়ে যায়। তবে আর্থিক সংকটটি তুলনামূলক স্বল্পস্থায়ী ছিল, কারণ বাজার মনে করেছিল যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো আর্থিক ব্যবস্থা রয়েছে।

দেলাত্তের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হলে সরকারি ঋণের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় ১২০ বিলিয়ন ইউরো সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে কর বাড়ানো কিংবা সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। এমনিতেই দেশটির অনেক নাগরিক বর্তমান পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট।


ফ্রান্সের জাতীয় মূলমন্ত্র ‘লিবার্তে, এগালিতে, ফ্রাতেরনিতে’—অর্থাৎ স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব। কিন্তু দেশটির উত্তপ্ত রাজপথ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষোভের চিত্রে এই আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এ সপ্তাহে প্যারিসের তৃতীয় প্রশাসনিক এলাকায় একটি বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভরত ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ম্যাক্সিম, ম্যাদলিন ও এলোদির সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিবেদক। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে বড় বড় সবুজ বর্জ্যের পাত্র দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ আটকে রেখেছিল শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে গর্ত, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকসংকটের কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। রাজধানীর সুবিধাবঞ্চিত উপশহরগুলোতে অবস্থা আরও ভয়াবহ বলে তারা জানায়।

শিক্ষার্থীরা বলে, ফ্রান্স সাম্যের কথা বললেও বাস্তবে দরিদ্র মানুষ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, আর সুবিধা পাচ্ছে ধনীরা। আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বয়স হবে না তাদের কারও। তারপরও ক্ষমতায় থাকা রাজনীতিকদের পরিবর্তনে পরিস্থিতির খুব বেশি বদল হয় কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে তারা।

তিন শিক্ষার্থীর মতে, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বড় পরিসরের বিক্ষোভই এখন তাদের কাছে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে হচ্ছে। 

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   ছাত্র  বিক্ষোভ  উত্তাল ফ্রান্স  রাজনৈতিক উত্তাপ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: