একসময় গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন দুলাল হোসেন (৪৫)। নিজের উপার্জনে চলত সংসার, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ছিল স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসার কেড়ে নিয়েছে তার কর্মক্ষমতা, কেড়ে নিয়েছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি। এখন কখনো মা, কখনো স্ত্রী, আবার কখনো ভাইয়ের সেবায় কাটছে তার দিন। উন্নত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠার স্বপ্ন থাকলেও অর্থাভাবে সেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছে না পরিবার। তাই বাঁচার আকুতি নিয়ে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনেরা।
দুলাল হোসেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আশারকোটা গ্রামের কালাগাজী প্রধানীয়া বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম চাঁন মিয়া। একসময় গাড়ি চালিয়ে উপার্জন করলেও এখন অসুস্থতার কারণে আর কাজ করতে পারছেন না। পরিবারের উপার্জনক্ষম এই ব্যক্তির অসুস্থতায় সংসারে নেমে এসেছে আর্থিক অনিশ্চয়তা।
দুলালের সংসারে রয়েছেন স্ত্রী সাহিদা বেগম, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তার দেখাশোনা করছেন মা ও ভাই মুজিবুর রহমান। কখনো মা, কখনো স্ত্রী, আবার কখনো ভাই তাঁর সেবা-যত্নে সময় দিচ্ছেন। প্রিয়জনেরা সাধ্যমতো পাশে থাকলেও অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা করানো তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে দুলাল অসুস্থ। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একদিকে প্রিয়জনকে সুস্থ করে তোলার আকুতি, অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের অনিশ্চয়তা—এই দুই সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাদের।
দুলালের অসুস্থতার প্রভাব পড়েছে তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও। পরিবারের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেলে দুলাল আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমন আশায় দিন গুনছেন স্বজনেরা।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, একসময় দুলাল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। তবে বর্তমানে তার এই সংকটময় সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় তার চিকিৎসায় সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দুলালের পরিবারের সদস্যরা বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক হৃদয়ের মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা কামনা করছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় দুলালের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে এবং তিনি সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসার লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন।
দুলালের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিতে বিকাশ নম্বর: ০১৮৭৩৭৪২১০৯।
একসময় নিজের শ্রমে পরিবারের দায়িত্ব সামলানো দুলাল আজ জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে স্বজনদের ওপর নির্ভরশীল। ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে এই কঠিন লড়াইয়ে তার এখন প্রয়োজন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে তার পরিবার কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পারে।
সময়ের আলো/জোই