চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কফি চাষ ঘিরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উপজেলার পদুয়া, ইসলামপুর ও বেতাগী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা। রোপণের কয়েক বছর পর গাছে ফলন আসতে শুরু করায় তাদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। কৃষকদের এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে কফি চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
চায়ের পর বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় কফি। দেশে কফির চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে বাজারে কফির দামও তুলনামূলক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষ স্থানীয় কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পরিকল্পিতভাবে এ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উপজেলার পাহাড়ি ও ছায়াযুক্ত এলাকায় কফি চাষ করছেন কৃষকেরা। ছায়াযুক্ত পরিবেশে কফি গাছ ভালো জন্মে বলে পাহাড়ে থাকা বিভিন্ন গাছের নিচে এর চারা রোপণ করা হচ্ছে। চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কফির ফল প্রক্রিয়াজাতকরণেও সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। এর অংশ হিসেবে ইসলামপুরে কফি প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
বেতাগী ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম ২০২৩ সালের দিকে তার জমিতে কফির চারা রোপণ করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় তিনি ৩৫০টি কফির চারা, সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান। ২০২৬ সালে এসে গাছগুলোতে ফলন পেতে শুরু করেছেন তিনি। তার দাবি, প্রতিটি গাছে এক কেজির বেশি কফির ফল পাওয়া যাচ্ছে।
মাহাবুবুল আলম বলেন, কাঁচা অবস্থায় প্রতি কেজি কফির ফল প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা যায়। কিছুটা প্রক্রিয়াজাত করলে দাম পাওয়া যায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর পাউডার তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে প্রতি কেজির দাম ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে বেশির ভাগ উপকরণ পেলেও পরিচর্যাসহ অন্যান্য খাতে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে কফি চাষের প্রসারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বাজারজাতকরণে সরকারি সহযোগিতা। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে তাঁর মতো আরও অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন। নিজের প্রায় ১২ কানি জমিতে কফি চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
বেতাগী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজান বলেন, প্রদর্শনী প্রকল্পের মাধ্যমে মাহাবুবুল আলমকে কফি চাষে সহযোগিতা করা হয়েছে। সাধারণত কফির চারা রোপণের আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফলন দিতে শুরু করে। কফির ফলকে ‘চেরি’ বলা হয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে গাছে ফুল আসে এবং আগস্ট থেকে ফল পাকতে শুরু করে। এরপর ফল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় কফি একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে এ চাষ হচ্ছে। কৃষকেরা পাকা কফির ফল নিয়ে কৃষি অফিসে আসছেন। ইসলামপুরে কফি প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার মাটি ও পরিবেশ কফি চাষের উপযোগী হওয়ায় ভবিষ্যতে এ চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতা, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষ কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস হয়ে উঠতে পারে।
সময়ের আলো/জোই